আশা কর্মীদের জীবনে আশা আসুক

সম্পাদকীয়

দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দাবি দাওয়ার ভিত্তিতে রাজ্যে আন্দোলনে নেমেছেন আশা কর্মীরা।

আশা কর্মীদের দাবি-দাওয়াগুলো মোটামুটি নিম্নরূপ :

১. সরকারি কর্মীদের মতনই স্বীকৃতি।
২. সরকারি কর্মীদের হারে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা।
৩. অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা।
৪. সরকারি কর্মীদের মতোই ছুটির দাবি

২০০৫ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখন কেন্দ্রীয় সরকারের একটা অন্যতম প্রকল্প হিসেবে এই রাজ্যে নিয়োগ করা হয় আশা কর্মীদের। বাম জামানায় এই আশা কর্মীদের বেতন ছিল মোটামুটি পাঁচ থেকে সাতশ টাকা। এরসঙ্গে ছিল বেশ কিছু ইনসেনটিভ। আর এই ভাতার বেশ কিছু অংশ বহন করে কেন্দ্রীয় সরকার।

আশা কর্মীরা মূলত গ্রামে ও শহরতলী অঞ্চল গুলিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরিসেবা বিশেষ করে মা ও নবজাতকদের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের টিকাকরণ এবং হাসপাতালের মাধ্যমে নিরাপদ মাতৃত্বের ব্যবস্থা করে থাকেন। আবার অনেক সময় সরকারি বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে পালস পোলিওর কর্মসূচি সহ একাধিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকে সক্রিয়ভাবে। করোনাকালীন সময়ে এই আশা কর্মীরা বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল।

২০১১ সালের পালা পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশা কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি করেন ২০২৪ সালে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার আশা কর্মীদের খাতে ২০০৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বরাদ্দ সেভাবে বৃদ্ধি করেনি। যার জন্য আশা কর্মীদের, মাসিক ভাতাটা অনেকটাই কম। তবুও এখন একজন আশা কর্মী এই রাজ্যে মোটামুটি ভাবে ইনসেনটিভ বাদ দিলে ৫২০০ টাকা করে পান। তবে এর মধ্যে যেসব আশা কর্মীরা ইনসেনটিভ এর আওতাভুক্ত থাকেন তাদের আয়টা একটু বেশি হয় সাধারণ কর্মীদের থেকে।

একই রকম চিত্র রয়েছে ভারতজুড়ে আইসিডিএস কর্মীদের ক্ষেত্রেও। তারাও মাঝেমধ্যেই আন্দোলনে নামেন। তবে আশা কর্মীরা যেভাবে রাজ্যে আন্দোলনে নেমেছেন সেই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের তৃণমূল সরকার আগেই তাদের মোবাইল, করোনা কালীন সময়ে বীমা সহ একগুচ্ছ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করলেও সেই প্যাকেজ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভালো করেই জানেন আশা কর্মীরা প্রতিটা পরিবারের ভেতরে গিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রের স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের বিশেষ কর্মসূচি গুলি নিবিড় ভাবে পালন করে। সেই কারণেই ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর হার অনেকটাই কম। অন্যদিকে, গোটা ভারতের তুলনায় এই পশ্চিমবঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক জন্মহার অনেকটাই বেশি।

সম্প্রতি তারা কালীঘাট অভিযানে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তবে রাজ্যের সরকার তাদের দাবিগুলি সহানুভূতির সঙ্গেই বাস্তবায়নের পথে। কেননা এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় ভাগও রয়েছে। কেন্দ্র সরকার সেভাবে তাদের অংশীদারিত্ব এই প্রকল্পে বৃদ্ধি না করলেও বিগত বাম জমানার তুলনায় তৃণমূল সরকার এই খাতে ব্যয় বরাদ্দ অনেকটাই বৃদ্ধি করেছে। এখন গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ আন্দোলন করতেই পারেন গণতান্ত্রিকভাবে। তাই আশা কর্মীদেরও আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। তবে, আশা কর্মীদের জন্য বর্তমান সরকার যেসব প্রকল্পগুলি ঘোষণা করেছে সেই সব প্রকল্প গুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তবেই আশার আলো দেখবেন পশ্চিমবঙ্গের আশা কর্মীরা