কলকাতায়(Kolkata) লাগাতার বৃষ্টিতে(Rain) একদিকে জলচিত্রের দুর্ভোগের ছবি উত্তর থেকে দক্ষিণে। ঠনঠনিয়া থেকে পাটুলি, কলেজ স্ট্রিট থেকে … । যেদিকে তাকানো যায় দুর্যোগ আর দুর্ভোগের চালচিত্র। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার এই খবর আবহাওয়া দপ্তরের থেকে আগাম এসেছিল। কিন্তু না সরকারি প্রশাসন, না সিইএসসি (CESC)- যেন প্রকৃতির খেয়ালের চাইতেও তাদের খামখেয়ালিপনা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইতিবাচক মনোভাবের অভাবে কেউই প্রাক সাবধানতা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি। ফলে যখন দুর্যোগ এল। হেলায় হারিয়ে গেল কতগুলি তাজা প্রাণ। দুঃখপ্রকাশ করে দায় ঝেড়ে ফেলতে পারলেই যেন দায়মুক্ত হওয়া যাবে। কিন্তু বিপদ বড় বালাই। রাস্তার লাইট জ্বালাব না। একথা সগর্বে জানাতে পেরে যেন শ্লাঘা অনুভব করছেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সভ্য সমাজের জনহিতকর সরকার কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত সিইএসসি কেউই এই দায় ও দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে পারেন না। তারপরেও এই গয়ং গচ্ছ মনোভাবের কোন ক্ষমা সাধারণ মানুষ করতে পারেন কিনা সেটা জনতার আদালতই স্থির করবেন।
কলকাতায় টানা বৃষ্টির দুর্যোগে জলজট, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা আর অগণিত ভোগান্তির ছবি আবারও প্রমাণ করল সিস্টেম কতটা ভঙ্গুর। কিন্তু এর মধ্যেও যখন কর্তৃপক্ষ—বিশেষ করে সি ই এস সি—দায় এড়ানোর মনোভাব নেয়, তখন প্রশ্ন জাগে – নাগরিকরা তবে কোথায় যাবেন?দায় এড়ানোর সংস্কৃতিশহরে বিদ্যুৎ নেই, রাস্তা অন্ধকার, হাসপাতাল থেকে ঘরবাড়ি সবাই বিপর্যস্ত। অথচ কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নাকি “অপ্রত্যাশিত”। প্রতি বছরই বর্ষায় একই দুরবস্থা হয়, তাহলে প্রস্তুতির ঘাটতি কেন ? দায় স্বীকার না করে দায়িত্ব অন্যদিকে ঠেলে দেওয়া আসলে দায়িত্বহীনতার বড় দৃষ্টান্ত । নাগরিকদের প্রতিশ্রুতির দাবি – আমরা কেবল বিল জমা দেওয়া গ্রাহক নই, বরং নাগরিক অধিকারভুক্ত মানুষ।
[আরও পড়ুন] http://heavy-rainfall-causes-the-death-and-crisis-in-kolkata/
নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা পাওয়ার জন্যই টাকা দিই(CESC)—শুধু অজুহাত শোনার জন্য নয়। যে কোন প্রতিকুল পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের থাকা উচিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর মানসিকতা, দায় অস্বীকার করে নয়। মূল শিক্ষা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানো যায় না, কিন্তু প্রস্তুতি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা দিয়েই ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রতিষ্ঠান যখন দায় স্বীকার করতে শেখে না, তখন মানুষ বাধ্য হয় জবাবদিহিতা দাবি করতে। উন্নত শহর চাইলে, এড়িয়ে যাওয়া নয়—বরং সঠিক স্বীকারোক্তি ও সঠিক পদক্ষেপের প্রয়োজন। মাননীয় CESC কর্তৃপক্ষ আপনারা কি চান। মানুষ সমালোচনার ধার আরও কড়া করে তিক্ততার মধ্য দিয়ে প্রতিদিনের নাগরিক অধিকার আদায়ের দাবিতে পথে নামুক। চান কী তীব্র আর কটু সমালোচনার ভঙ্গিতে প্রতিটি অধিকারকে কায়েম করতে সোচ্চার হওয়ার দিকে ঠেলে দিতে। এইভাবে চলতে থাকলে শেষের সে অনভিপ্রেত দিনের দূরত্ব ক্রমশ কমতে থাকবে। কারণ মানুষের ধৈর্য একটা সীমায় এসে বেড়া ভেঙে ফেলে। তা সে যতই কঠিন আর কঠোর পরিস্থিতির বেড়ার আগল থাকুক না কেন। বালির বাঁধের মত সে বেড়া ভেঙে পড়তে বাধ্য। ইতিহাস সেই কথাই বলে। মায়ের পুজো শুরু হয়ে গেছে। অসুর আর সুরের আবাহনীর মধ্যে সুরে বাজুক বিদ্যুৎ দপ্তর। উচ্চগ্রাম বাক্সগুলি যেন স্তব্ধ না হয়ে যায়। রাস্তার অন্ধকার যেন দুষ্কৃতিদের প্রলোভিত না করে অপরাধ প্রবণতার পালে হাওয়া দেওয়ার। তমসো মা জ্যোতির্গময়।
