জলকষ্টের সমস্যা নতুন কিছু নয়। প্রতিবছর শুধু গ্রামই নয়। টানা বৃষ্টিতে দেশের অনেক মেট্রোপলিটান শহরই ডুবে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে। এবছরও দেশের প্রধান প্রধান শহরই একটানা বৃষ্টিতে ডুবেছে জলের তলায়। আটকে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন । কিন্তু এবছর কলকাতার ইতিহাসে যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়ে স্তব্ধ হয়েছে যান চলাচল। থেমে গিয়েছে জীবনের গতি, তা এক কথায় নজিরবিহীন। বহু বয়স্ক মানুষও মনে করতে পারছেন না এমন দুর্যোগের আবহাওয়া তাঁরা শেষ কবে দেখেছেন। বৃষ্টির ফলে বন্ধ হয়ে গেছে, স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। এমনকি বিভিন্ন পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এহ বাহ্য। সবচেয়ে মর্মান্তিক যেটা সেটা হল একদিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দশ জনের মৃত্যু। এরমধ্যে কলকাতায় মৃত্যুর সংখ্যা ৭ জনের। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এই মৃত্যুর দায় দিয়েছেন সিইএসসির উপরে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিবারগুলিকে চাকরি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছন।
[আরও পড়ুন] http://GST আর স্বদেশী অস্ত্রে দেশের বাজার চাঙ্গা করতে চাইছেন মোদী।
কলকাতার বুকে এই অভূতপূর্ব দুর্যোগের যে জলছবি সেটা একা কলকাতা নয়, মুম্বাই কিংবা দিল্লীর বুকেও দেখা দেয়। মুম্বাইতে দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা আগস্টেই দেখা গেছে। প্রবল বৃষ্টিতে মুম্বাই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলজট, রাস্তা বন্ধ এবং যানবাহন থমকে যায়। ভিখরোলিতে ভুমিধসে দুজনের মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন আহত হন। গত চারদিনে মুম্বাইতে ৮০০ মিমি-রও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এই সময় রাজ্যে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে জলে বা বৃষ্টির ফলে দুর্ঘটনায়। বন্ধ হয়েছে বিমান ও ট্রেন চলাচল। স্কুল কলেজও বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। দিল্লিতে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার খবর এসেছে দিল্লীর কালকাজি এলাকায়। গাছ ভেঙে পড়েছে বাইকের ওপর। তারফলে একজনের মৃত্যু ও আর একজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে বৃষ্টির কারণে রাস্তা ও ট্র্যাফিকে বড় বাধা সৃষ্টি হয়, বহু স্থান জলজটে ভুগছে । ৯ আগস্ট ২০২৫-এ জৈতপুর এলাকায় দেয়াল চাপা পড়ে সাত জন মারা গেছেন, যাঁরা ঝুপড়িতে থাকতেন।
পাশাপাশি কলকাতায় সাম্প্রতিক প্রচণ্ড বৃষ্টির ফলে ব্যাপক জলজট, বেশ কিছু স্থানে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায়। স্থানীয় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি এবং দৈনন্দিন চলাফেরা চরম ভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, মেট্রো চালনা বন্ধ, এবং বিমান সংস্থাগুলি যাত্রীদের সাবধান থাকতে পরামর্শ দেয়। দক্ষিণ কলকাতায় বিদ্যুতের খুঁটি জলে ডুবে যাওয়ায় ইলেকট্রিক শক লেগে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। জলের কারণেই ইতিমধ্যেই দশজনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্ষেপে এই শহরের বুকে যে অভূতপূর্ব প্রাক-পূজো পর্বের দুর্যোগ মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। প্রবল বর্ষণে জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে, বহু স্থানে জলজট, যানজট, দুর্ঘটনা এবং মৃত্যু ঘটেছে। প্রশাসন ও আবহাওয়া বিভাগ সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দুর্গা মায়ের আগমনের আগে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মানুষকে দিশাহারা করে দিয়েছে। সংকীর্ণ রাজনীতির ফাঁদে না পড়ে এখন প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াই এই সময়ের দাবি।
