বাংলার রাজনীতির খেলার মাঠে আসন্ন লড়াই (BJP-TMC) একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘন ঘন বাংলায় সফর, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুজো উদ্বোধনে উপস্থিতি । সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে বিজেপি বাংলার রাজনীতিকে সামনে রেখে এক সুবৃহৎ প্রচার কৌশল সাজাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য একটাই—রাজ্যের ক্ষমতার আসনে বসা। একমাত্র প্রতিবন্ধকতা তৃণমূল। বাংলা সবসময়ই জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি পরীক্ষাগার। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে বামফ্রন্টের জন্ম, আবার পরিবর্তনের হাওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান — প্রতিটি পর্বে বাংলার জনমত প্রমাণ করেছে যে জনগণ বারবার স্থবিরতায় বিশ্বাস না রেখে পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছে।আজকের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস অব্যাহত বিরোধ, দুর্নীতি ও অন্দরকলহের অভিযোগে ক্রমশই চাপে রয়েছে।
[আরও পড়ুন] http://কেউ ভাল নেই, কেউ কথা রাখেনি। পুজোর (DurgaPuja) আগেই বিষাদের সুর।
শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা হোক, বা ঘন ঘন নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত—সবই তৃণমূলের ভাবমূর্তিকে আঘাত করছে। বিজেপি এই সুযোগকেই সামনে রেখে তাদের জোরদার প্রচার চালাচ্ছে । অন্যদিকে বাংলার ভোটারদের মনস্তত্ত্বও কম জটিল নয়। ধর্মীয় আবহ, বাঙালির আবেগপ্রবণ উৎসব—যেমন দুর্গাপুজো — এসব নিয়েও রাজনৈতিক কৌশল হচ্ছে। অমিত শাহের দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিছক সৌজন্য নয়, বরং ভোটের আগে সরাসরি সাংস্কৃতিক আবহে জায়গা করে নেওয়ার প্রয়াস। তবে প্রশ্ন হলো — বাংলার জমিতে বিজেপি কতটা গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে ? এখনও গ্রামবাংলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক দক্ষতা ও লোকাল নেটওয়ার্ক অটুট আছে। পাশাপাশি কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহে অনেক ভোটার আবার “বাঙালির আত্মপরিচয়” রক্ষায় আঞ্চলিক দলকেই ভরসা করতে পারে। নিঃসন্দেহে আগামী বিধানসভা নির্বাচন হবে বাংলার ভবিষ্যতের এক বড় পরীক্ষা। বিজেপির সর্বাত্মক আক্রমণ ও তৃণমূলের রক্ষণাত্মক কৌশলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে কোটি ভোটার। তারা ঠিক করবেন, পরিবর্তনের নতুন গল্প লিখবে বাংলা(BJP-TMC),নাকি একই নেতৃত্বকে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব অর্পণ করবে।
