Editorial : প্রদীপের নীচে নয়, সবটাই এখনও অন্ধকারে।

সম্পাদকীয়

নিউজ পোল ব্যুরোঃ  ভারতের অর্থনীতির বৈষম্য আজ এমন এক গভীর সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে যা শুধুমাত্র এক শ্রেণির মানুষের আয়েই নয়, তাদের জীবনমানেও প্রবল ব্যবধান সৃষ্টি করছে । বাজারমুখী উন্নয়নের ধারা ও কর্পোরেটকেন্দ্রিক অর্থনীতির নীতিই (Poverty Line)এই বৈষম্যের মূল কারণ। বিশ্বব্যাংক হিসাব অনুসারে ৬% ভারতীয় দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করে এখনও। এটা যেমন মুদ্রার একপিঠের ছবি। তেমনি কিছু ভাল তথ্য আছে। গত দশ বছরে প্রায় ১০% মানুষকে চরম দারিদ্র্য সীমার নীচে থেকে তুলে আনা সম্ভব হয়েছে। এর আবার বেশি অংশই গ্রামীণ মানুষের। এই সব তথ্যই বিশ্বব্যাংকের দেওয়া।

[আরও পড়ুন]  http://এবার ডিজিটাল যুদ্ধ বাংলার রাজনীতিতে।

একটি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ ১ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে ভারতের মোট ৪০ শতাংশ সম্পদ, অন্যদিকে ৫০ শতাংশ জনগণের হাতে রয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ সম্পদ । এই বৈষম্য ঔপনিবেশিক যুগের চেয়েও ভয়াবহ স্তরে পৌঁছেছে, যেখানে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, আর গরিবরা নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে।
বৈষম্যের মূল (Poverty Line)কারণ হিসেবে বলা যায়, ভারতের অর্থনৈতিক নীতি গত তিন দশকে শিল্প-বিনিয়োগ ও বাজার ভিত্তিক উন্নয়নের উপর নির্ভরশীল হয়েছে, যার প্রভাব ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে । কর কাঠামো ধনীদের পক্ষে সুবিধাজনকভাবে তৈরি হয়েছে, ফলে কর্পোরেটদের মুনাফা বাড়ছে কিন্তু শ্রমজীবী মানুষের আয় স্থবির । উচ্চবর্ণভিত্তিক সামাজিক গঠনতন্ত্রও এতে ভূমিকা রাখছে । সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ বিলিওনেয়ারই উচ্চবর্ণের মানুষ । সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে যে আর্থিক বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি সামাজিক অসাম্য, অপরাধ ও সুযোগের বঞ্চনারও উৎস । শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অসম প্রবেশাধিকার, কর্মসংস্থানের সংকট, এবং কর্পোরেট একচেটিয়ার কারণে সমাজে একটি স্থায়ী শ্রেণিভেদ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা ও আগ্রাসনের জন্ম দিচ্ছে। বৈষম্য-হ্রাসের সম্ভাব্য পথ হিসাবে অমর্ত্য সেনের মতন অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ভারতে টেকসই উন্নয়নের জন্য তিনটি পদক্ষেপ জরুরি — প্রথমত, ধনীদের উপর উপযুক্ত কর আরোপ; দ্বিতীয়ত, শ্রমিকদের সুরক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা-ভিত্তিক বিনিয়োগ; তৃতীয়ত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয়বৃদ্ধি । রাষ্ট্রের নীতি ও কর কাঠামোর সংস্কার ছাড়া অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফেরানো সম্ভব নয়।
উপসংহার- ভারতের অর্থনীতি যতই এগিয়ে যাওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি করুক, যদি সেই প্রবৃদ্ধি জনগণের অর্ধেকের কাছে না পৌঁছায়, তবে তা আসলে এক নির্মম অসমতার প্রতিফলন । জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার না দিলে ভারত ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’হওয়ার স্বপ্ন কেবল এক প্রযুক্তিনির্ভর মরীচিকা হয়ে থাকবে।