Editorial: সপ্তমীতে ঢাকের তালে যদি ট্রাম্পের মগজ তালে ফেরে

সম্পাদকীয়

সপ্তমীর ঢাকের বাদ্য আর ট্রাম্পের মগজধোলাই সপ্তমীর ঢাক বাজতে শুরু করেছে, কাঁসরের ধ্বনি, আরাধনার মন্ত্র। অথচ আমেরিকার এক কোণে বসে ট্রাম্প সাহেব এখনও নিজের মুখের ঢাক বাজাতে ব্যস্ত। তিনি ভেবে বসেছেন, তিনিই হলেন স্রষ্টার আসল দূত, আর পৃথিবী তাঁর টুইট ছাড়া চলতে পারে না ।
দেবী দুর্গা এই সময়ে পিতৃগৃহে আসেন অশুভ শক্তি দমন করতে । সপ্তমীর দিন কলা বৌ স্নান এবং তাঁর পুজোই প্রধান। ভাবুন তো, যদি এবার দুর্গা মা অসুর দমনের পাশাপাশি একটু “ওভাল অফিস ট্যুর” সেরে আসেন? ট্রাম্পকে বসিয়ে দিয়ে বোঝাতেন, “বাবা, গালগপ্পো আর বিভাজন করে রাজনীতি চলে না। শোনো, এভাবে অহংকার করলে মহিষাসুরকেও হার মানাবে তোমার জেদ!”ঢাকিরা যেমন একসাথে তাল মেলায়, তেমনই ট্রাম্পের উচিত বিশ্বরাজনীতির ঢাকের সঙ্গে তাল মেলানো। কিন্তু না, তিনি বরং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে নায়ক ভাবতে বেশি পছন্দ করেন। যেন দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে গিয়ে নিজেই ঘোষণাদার, নাচিয়েও তিনি, আবার দেবীর ভূমিকাতেও তিনিই ! খালি জেন্ডারটা পুং। পাশাপাশি পাকিস্তানের নেতাদের মাথায় আসুক হুঁশ। জেগে উঠুক এই বোধ — ভারতের সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে তাদের কোন লাভ নেই। যতবার ওরা এই ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। স্রেফ গুড়িয়ে গেছে। তবু টনক নড়ে না কেন, মা দুর্গাই বলতে পারবে। ভারতের রাজনৈতিক বোদ্ধাদের সেই আহাম্মকির ব্যাখ্যা করা সাধ্যাতীত।
সপ্তমীর পুজোয় যেমন মানুষ খুশির বার্তা নিয়ে একত্রিত হয়, ট্রাম্পের মনেও যদি মা একটু যুক্তির আলো জ্বেলে দিতেন, তবে অনেক ক্ষোভ-অহংকার ধুয়ে মুছে যেত। হয়তো তাঁর মগজের ভেতর থেকে উঠে আসত নতুন বোধ – শান্তি, সহমর্মিতা আর স্বার্থপরতা কমানোর সাহস। শেষকথা, সপ্তমীর অঞ্জলির ফুল যেমন সমবেদনা আর সাম্যের স্মারক, তেমনই আমরা চাই দেবী দুর্গা ট্রাম্পের মাথায় একরাশ বুদ্ধির ধূপ জ্বালিয়ে দিন— যেন গোটা আমেরিকাই এই উৎসবের মতো আলো ও আনন্দের রঙে ভরে ওঠে।