নিউজ পোল ব্যুরোঃ বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-(BiharPoll-25)এর প্রথম দফার ফলাফল বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই দফাতেই রেকর্ড ৬৪.৬৬% ভোট পড়েছে, যা বিহারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই বেড়ে যাওয়া ভোটার উপস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী। সমাজের প্রতিটি স্তরের ভোটার এদিন বুথে ছুটে গেছেন এবং এতে সাধারণত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখেন বিশ্লেষকেরা । ভোটের প্রবণতা ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী – প্রথম দফার নির্বাচনের ট্রেন্ড দেখাচ্ছে যে এনডিএ (NDA) জোট, যার মধ্যে বিজেপি, জেডি(ইউ) সহ আরও কয়েকটি দল রয়েছে, তাদের সংগঠন এতটাই জোরালো যে তারা বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকতে পারে। মতামত বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে যে বিজেপি-বাম সহ এনডিএর সম্মিলিত ভোটশেয়ার ৪৭ শতাংশেরও উপরে যেতে পারে। এতে বিজেপির আসন সংখ্যা ৮০-৮৫, জেডি(ইউ)-এর ৬০-৬৫ ও ছোট শরিকদের মিলিয়ে আরো ১০-১৫টি আসন আসতে পারে। অপরদিকে, নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে প্রশান্ত কিশোরের ‘জন সুরাজ পার্টি’, যাদের ৭% ভোট ও ২-৫টি আসন পেতে পারে এমন সম্ভাবনা উঠে আসছে । ভোটার তালিকা সংস্কার ও বিরোধীদের স্পর্শকাতরতা এবারের নির্বাচনে এক বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৭ লাখ নাম কাটা পড়েছে বিশেষ তালিকা সংশোধনের কারণে, যা বিরোধী দলগুলো, বিশেষত আরজেডি-কংগ্রেস জোট, বিশাল ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছে । তাদের দাবি, এই নাম কাটা মূলত নিম্নবর্গ ও সংখ্যালঘু ভিত্তিকে দূরে রাখতে করা হয়েছে, যারা সাধারণত বিরোধীদলকেই ভোট দিয়ে থাকেন। তবে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিবাদী মনোভাবও ইঙ্গিত করতে পারে, যদিও বিহারে পূর্ব-অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, এই সংখ্যার সঙ্গে ভোটের ফলাফল সরাসরি সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়নি।
[আরও পড়ুন] http://রক্তপাতহীন বিহারের প্রথম দফার নির্বাচন
রাজনীতি ও সমাজগত বার্তা – এই নির্বাচনেও মূল টক্কর হচ্ছে উন্নয়ন বনাম পরিচয় রাজনীতি। এনডিএ শিবির জোর দিচ্ছে ‘ডাবল ইঞ্জিন উন্নয়ন’-এ,(BiharPoll-25) অপরদিকে মহাগঠবন্ধন দলগুলি আশ্রয় নিচ্ছে চাকরি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জাতভিত্তিক সমীকরণের ওপর। ইতিহাস বলছে, বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে যাদব (আরজেডি), কুর্মি (জেডি ইউ), ও অতি পিছড়া (EBC)-দের ভোট ফ্যাক্টর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই সুর ।
সম্পাদকের দৃষ্টিকোণ-প্রথম দফার অতিরিক্ত ভোটিং (BiharPoll-25)এবং নানা স্তরে উত্তেজনা দেখে অভিজ্ঞতার নিরিখে বলা যায়, বিহারে এবার পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও এনডিএ এবং বিজেপি-জেডি ইউ জোটের শক্তি কে অবহেলা করা যাবে না। বিরোধীদের শিবিরে উচ্ছ্বাস ও আশা থাকলেও ভোটার তালিকা সংশোধন ও হাই টার্নআউটের পারস্পরিক প্রভাব ভোটের দিন পর্যন্ত অনিশ্চয়তাই বজায় রাখবে। সেই সঙ্গে নব-উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তি -বিশেষত জনগণের ক্ষোভ বা চাকরি, উন্নয়ন, এবং সামাজিক নিরাপত্তা ইস্যু – পর্যাপ্ত ভূমিকা পালন করবে কিনা তা নজর রাখতে হবে। তবে, প্রথম দফার ফলাফল হয়তো চূড়ান্ত রায় দেবে না, কিন্তু রাজ্যের ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের জন্য সুর বেঁধে দেবে, এতটুকু নিশ্চিতভাবে বলা যায় ।
