নিউজ পোল ব্যুরোঃ ভারতের সংবিধান (Constitution)নারী -পুরুষের ভেদাভেদ করে না। আমাদের সমাজও মনের থেকে সেটাই সমর্থন করে। তবে কিছু পুরুষের মনন একটু বেশি পুরুষোচিত। যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
মেয়েদের পর্দার আড়ালে রাখার একনায়কি প্রাচীন অভ্যাস ঝেড়ে ফেলার শক্ত কাজটা বক্তৃতায় যত সহজে মন কা বাতের ঢঙে বলে দেওয়া যায়, কাজে অনেক সময়ই ভুল হয়ে যায়। এই যেমন তালিবানের নেতার ভারতে আসার পরে উঠে আসা বিতর্ক। তালিবানি নেতার আবদার ছিল, ভারতে তার সামনে যেন কোন মহিলা সাংবাদিক না আসে। অবলীলায় সেই আবদার মেনে নিয়ে বিজেপি সরকার এখন চরম অস্বস্তিতে। চওড়া ছাতি নিমেষে ড্যাস ড্যাস হয়ে গেছে । তারপরেও তাঁর মন কা বাতের বাতেলা শুনে পুলকিত হই।
ভারতের সংবিধান (Constitution) নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করে না—এই কথাটি আজও সেই একই মর্যাদায় প্রযোজ্য। কাগজে-কলমে ‘সমতা’ এক অনবদ্য নীতি, কিন্তু সমাজের বাস্তব চিত্র যেন বারবার সেই নীতির বিপরীতে দাঁড়ায়। সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে যখন দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যিনি নিজেকে ‘চওড়া ছাতি’র প্রতীক বলে প্রচার করেন, তিনিই তার নিজের বক্তব্যে ও আচরণে সেই সমতার মূলে আঘাত করে বসেন! প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা যতটা পরিমিতভাবে ‘মন কা বাত’-এর মঞ্চে পেশ করা হয়, বাস্তবে তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে ক্ষমতার আত্মপ্রেম এবং গৃহীত নীতির এক গভীর বৈপরীত্ব ।
[আরও পড়ুন] http://ক্ষমতার দম্ভে নয়,সংগ্রামের সিলমোহর নোবেল শান্তি পুরস্কার
নারী সুরক্ষা, শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ—এই শব্দগুলো নেতার ভাষণে বারবার ঘুরে ফিরে আসে, কিন্তু তা কেবল অভ্যন্তরীণ প্রচারের পোস্টারে বা নির্বাচনী গালভরা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ। সংখ্যার ভাষায় নারী কর্মসংস্থান এখনও পড়ে আছে দশকের নিচের স্তরে, এবং সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের হারও এখনো আপেক্ষিকভাবে নগণ্য। অথচ নেতৃত্বের চওড়া ছাতি নাকি জাতির গৌরব! সবচেয়ে আশ্চর্য, এই প্রচারযন্ত্র এমন দক্ষভাবে কাজ করে যে, মানুষ আজ বক্তৃতাকে নীতির বিকল্প মনে করতে শুরু করেছে। ‘মন কা বাত’-এর ভাষণ শুনে আমরা যেমন পুলকিত হই, তেমনি সেই আনন্দেই ভুলে যাই, এই মনের কথায় কি সত্যিই দেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। দেশের জিএসটি আকাশচুম্বী করে রাজকোষ ভরে নিয়ে এবার একটু কমিয়ে দিয়ে ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করে মানুষের মনকে বিপথে চালিত করার পুরনো পদ্ধতি বারবার সামনে আনা হলেও কিছু মানুষ এতেই উদ্বাহু হয়ে নেচে ওঠেন। কোথায় দেশের সত্যিকারের বাস্তবতা ? জনতার মানসে যে প্রশ্ন জমে—বেকারত্ব, নারী নির্যাতন, দারিদ্র্য, কৃষকের মৃত্যু—সেগুলো কোনোদিনই সেই সম্প্রচারের বিষয় হয় না। হয়ত কারণ, সেখানে উত্তর দেওয়ার মতো রাজনৈতিক সততা দেখা দেয় না। বিজেপি সরকার আসলে এক ধরনের মানসিক বিপণন তৈরি করেছে—যেখানে নীতি নয়, প্রতীকই রাজনৈতিক পণ্য। চওড়া ছাতি, গেরুয়া রং, ‘নিউ ইন্ডিয়া’-র জাগলারি —সবই এক এক ধরনের আবেগের বিক্রি। কিন্তু সেই ফানুস ফুটো হয়ে হাওয়া বেড়িয়ে যায়, যখন তালিবানি নেতার মত রক্ষণশীল নেতার আবদার মেনে নেওয়ার বিচ্যুতি সামনে এসে পরে। সারাদেশের এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া তাই খুব স্বাভাবিক।
ভারতের সংবিধান(Constitution)যেমন সমতা দিয়েছে, তেমনি দায়িত্বও দিয়েছে—কিন্তু আজ সেই দায়িত্ব ক্ষমতার অহংকারে হারিয়ে যাচ্ছে। আজ প্রশ্ন একটাই—চওড়া ছাতি যখন চুপসে যায়, তখন সেই দায়িত্ব কে নেবে? মানুষ না কি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রাজনীতি?
