নিউজ পোল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের (North Bengal) হড়পা বানের ক্ষতচিহ্ন এখনও স্পষ্ট। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নাগরাকাটা সহ আশপাশের বহু এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনও ব্যাহত। রাস্তা ও সেতু বেহাল, যান চলাচল প্রায় বন্ধ। আর ঠিক এই সময়, প্রশাসনিক নজরদারি নয় মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়েই দুর্গত অঞ্চলে পায়ে হেঁটে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
আরও পড়ুন: Lalu Prasad Yadav: তেজস্বীর পথে কাঁটা? আইআরসিটিসি দুর্নীতিতে চার্জ গঠনে চাপে যাদব পরিবার
সোমবার দুপুরে আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) হাসিমারার গেস্ট হাউস থেকে রওনা দেন তিনি (Mamata Banerjee)। যতদূর গাড়ি যায়, যান। এরপর শুরু হয় এক অন্য রকম পরিদর্শন! নিজে নেমে দুর্গম, ভাঙাচোরা রাস্তা ধরে হেঁটে এলাকা ঘুরে দেখেন। এই ‘পথচলা’ ছিল শুধুই লোকদেখানো প্রশাসনিক সফর নয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বাস্তব বার্তা। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন, শোনেন তাদের অভাব-অভিযোগ, তীব্র ক্ষোভ। প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তাঘাট ও ভাঙা সেতুগুলির মেরামতির কাজ শুরু করতে হবে। কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না, এমন হুঁশিয়ারিও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) কণ্ঠে। শুধু পরিদর্শন নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে আর্থিক সাহায্যের চেক ও চাকরির নিয়োগপত্রও তুলে দেন তিনি। নাগরাকাটায় মৃতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “আপনাদের পাশে সরকার আছে, আমি আছি।”
হড়পা বানের তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত উত্তরবঙ্গের পুনর্গঠনের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে মাত্র চারদিনের ব্যবধানে আবারও সেখানে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দুপুরে তিনি পৌঁছন আলিপুরদুয়ার। সেখানে পৌঁছেই প্রশাসনিক বৈঠক সেরে রাতে হাসিমারায় অবস্থান করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরদিন সকালে সেখান থেকে সরাসরি রওনা দেন নাগরাকাটার বিধ্বস্ত এলাকায়। এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বন্যাক্রান্ত এলাকাগুলির পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে এবং পুনর্বাসনের অগ্রগতি বুঝতে ফের তিনি উত্তরবঙ্গে যাবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রেখেই সোমবার একাধিক গ্রামে পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল। পরিদর্শন করেন ত্রাণ শিবিরগুলি, কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাদের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন সঙ্গী প্রশাসনিক আধিকারিকদের।
এদিন আবারও মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ তোলেন ভুটানের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, “ভুটান থেকে হঠাৎ জল ছেড়ে দেওয়ার ফলে আমাদের এখানে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর দায় ওদেরও নিতে হবে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানাচ্ছি। পাশাপাশি, আবারও আমি বলছি, ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি।” মমতার এই মন্তব্য যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকেও ইঙ্গিত করছে, তা বলাই বাহুল্য। একইসঙ্গে, দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকাও স্পষ্ট করে দিচ্ছে এই সফর।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
