নিউজ পোল ব্যুরো: বল রে জবা বল, কোন সাধনায় পেলি শ্যামামায়ের চরণতলে! কালীর পুজো (Kali Puja) মানেই যেন অঙ্গীভূত হয় এই লাল জবা ফুল। মা কখনো রণচণ্ডী, কখনো দয়াময়ী। হাতে খড়্গ, গলায় মুণ্ডমালা আর পুজোয় থাকা এই লাল জবা যেন দেবীর রক্তিম শক্তির প্রতীক। কিন্তু কেন কেবল জবা (Hibiscus) ফুলই মা কালীর পায়ে অর্চিত হয়?
প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী জবার পাপড়ি কালীর লোলজিহ্বার মতো টকটকে লাল। লাল রঙ শৌর্য ও শক্তির প্রতীক। কালী মা পাপের বিনাশে কখনো থেমে থাকেন না। তাই তার অঙ্গনে লাল রঙের জবা ফুল অপরিহার্য। আরেকটি কাহিনী অনুযায়ী, অন্যান্য ফুল কোনো পুজোয় ব্যবহৃত হলেও, জবা কখনো ব্যবহার হতো না। তাই জবা দেবীর কাছে গিয়ে বলেন, “মা, আমার না আছে রূপ, না আছে গন্ধ, তাই আমাকে কেউ ব্যবহার করে না।” মা বললেন, “যাদের কেউ নেই, তাদের মা আছে। আজ থেকে আমার পুজোয় জবা অপরিহার্য।” এই বিশ্বাস থেকেই কালীর পুজোয় লাল জবা ফুলের গুরুত্ব স্থায়ী হয়।
আরও পড়ুন:IRCTC App Down : সকালের তৎকাল টিকিটের সময় IRCTC ওয়েবসাইট-অ্যাপ ক্র্যাশ! যাত্রীদের ক্ষোভ
লাল রঙ শুধু শক্তি নয়, এটি সৃজনের প্রতীকও। ঋতুচক্র (Cycle of seasons) এবং রক্তজবা (blood hibiscus) একসাথে মা কালীর অদম্য শক্তি ও স্নেহের প্রতীক। জবা ফুল শুধুই শৌর্য নয়, এটি ভালোবাসা, মমতা ও স্নেহেরও চিহ্ন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
কালীর গলায় পরানো ১০৮ জবার মালা (108 hibiscus mala) হিন্দুধর্মে অত্যন্ত পবিত্র। ১০৮ সংখ্যা ব্রহ্ম, ইন্দ্রিয়, ত্রিকাল এবং মানুষের মনের অবস্থার প্রতীক। প্রাচীন মতে, ৫৪টি অক্ষরের পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ মিলিয়ে ৫৪x২=১০৮। অন্য সূত্রে বলা হয়, ৬ ইন্দ্রিয় × ৩ ত্রিকাল × ২ হৃদয়ের অবস্থা × ৩ মনের অবস্থা = ১০৮। জপমালার মাধ্যমে ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ, মন শান্ত ও কালের ঊর্ধ্বে আত্মার প্রতিষ্ঠা হয়। এই কারণে কালীর পুজোয় লাল জবা ফুল আর ১০৮টি জবার মালা অবিচ্ছেদ্য। শুধুই ফুল নয়, এটি মা কালীর শক্তি, শৌর্য, স্নেহ এবং সৃজনের প্রতীক, যা প্রতি বছর পুজোর অঙ্গ হয়ে উঠে।
