নিউজ পোল ব্যুরো: পটনা হাইকোর্টের রায়ে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) ও তার প্রয়াত মা হীরাবেনকে (Heeraben Modi) নিয়ে তৈরি বিতর্কিত এআই ভিডিও (AI Video)। আদালত বুধবার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, এই ভিডিওটি অবিলম্বে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম (Social Media Platforms) থেকে সরাতে হবে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পি বি বজন্থরী এবং বিচারপতি অলোক কুমার সিনহার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ জারি করে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government), বিহার সরকার (Bihar Government), জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India), বিহার প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (Bihar Pradesh Congress Committee) এবং রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) নোটিস পাঠানো হয়েছে।
বিহারে কয়েক মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন (Bihar Assembly Election 2025)। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। কিছুদিন আগে ভোটার অধিকার যাত্রার (Voter Rights Yatra) সময় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি এক সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত মায়ের নামে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। সেই ঘটনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি (Artificial Intelligence Technology) ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও। ভিডিওটিতে কল্পিত কথোপকথন দেখানো হয়, যেখানে হীরাবেনকে মোদীকে ভর্ৎসনা করতে দেখা যায়।

এই ভিডিও ঘিরে জনস্বার্থ মামলা (Public Interest Litigation) দায়ের করেন বিবেকানন্দ সিং নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ, মৃত ব্যক্তিকে অসম্মান করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে ছোট করার চেষ্টা করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, রাহুল গান্ধীর জ্ঞাতসারেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিজেপি (BJP) ক্ষোভ প্রকাশ করে। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, কংগ্রেস (Congress) পরিকল্পিতভাবে এই এআই ভিডিও বানিয়েছে যাতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ও তাঁর প্রয়াত মায়ের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে বলে, পরিবারের মর্যাদাকে টেনে এনে রাজনীতির নামে এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে নির্দেশ এসেছে, সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক (Facebook), এক্স (X/Twitter), ইউটিউব (YouTube) এবং ইনস্টাগ্রাম (Instagram) থেকে বিতর্কিত ভিডিও অবিলম্বে সরাতে হবে। এই নির্দেশের ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই মামলা এবং আদালতের রায় নিঃসন্দেহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
