পলাশ নস্করঃ বছরই তিনি ভাইফোঁটার (Exceptional Bhaidooj)আয়োজন করে থাকেন। এবারেও করেছেন। এরমধ্যে নতুনত্ব কিছু নেই। তিনি রাজারহাট নিউটাউনের বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। আর বৃহস্পতিবার ভাইফোঁটার দিন সকাল সকাল হিন্দু বোনেদের পাশাপাশি মুসলমান আর আদিবাসী বোনেরাও এসেছেন বড়ভাই তাপস দাদাকে ফোঁটা দিতে। আমাদের অভ্যস্ত চোখ এই দৃশ্য সব জায়গায় দেখতে পায়না, সেটাই নতুনত্ব। রাজা অশোক থেকে সম্রাট আকবর – অনেকেই এই চেষ্টা করে গেছেন, রামকৃষ্ণ যেমন বলেছেন যত মত,তত পথ। যুগ যুগ ধরে সম্প্রদায়গত বিভেদের গণ্ডি ভেঙে দিয়ে নতুন করে সেই মহামিলনের পথ দেখিয়েছেন যারা- তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন তাপস দাদা। তবে এবার যেটা নতুন সেটা অদিতি মণ্ডলের জন্য নতুন সংগ্রামের কথা সামনে আনা। যমুনা, অনসূয়া কিংবা সুভদ্রাদের কাহিনীর বিস্তার লাভ তখনই সম্ভব অদিতি মণ্ডলের জীবনদীপের দুয়ারে প্রদীপ জ্বালিয়ে দিতে সেই নতুন সংগ্রামের কথাই শোনা গেল তাপস দাদার মুখে।
[আরও পড়ুন] http://ভাইফোঁটা শুধু একটা উৎসব নয়, আরও অনেক কিছু
অদিতি ১৪ মাসের শিশু সন্তান। এমন এক বিরল রোগে আক্রান্ত যার একটা ইঞ্জেকশনের দামই পড়বে ৯ কোটি টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। কিন্তু তাই বলে পিছপা হতে রাজি নয় তাপস চট্টোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষ থেকে উচ্চবিত্ত – সবার কাছেই ইতিমধ্যেই আবেদন রাখছেন সাহায্যের। এদিনের এই অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানও ওই বাচ্চার বাঁচার আবেদনের জন্য উৎসর্গ করেছেন তিনি।
তাপস চট্টোপাধ্যায়ের কাছে বিরোধীরাও স্বাগত। তিনি একটা বিষয়ে খুব পরিস্কার ধারণা পোষণ করে চলেন। রাজনৈতিক বিরোধিতা যেন ব্যক্তিগত শত্রুতায় না আসে। তাই আবেগভরে মন্ত্র পাঠের সঙ্গে সকলের এমনকি তার রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের বোনেদেরও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদের কাছে এই সর্বধর্ম সমন্বয়ের আন্তরিকতা পালনের সঙ্গে সঙ্গে একজন অনাত্মীয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার অনেক মানুষ সেই উপকার পেয়েছেন।
অদিতি মণ্ডলের নামটা একটা নতুন সংগ্রামের নাম। ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার(Exceptional Bhaidooj) এমন সুন্দর দিনেই তো নতুন করে অঙ্গীকার নেওয়া যায়। বলা যায়, কাঁটা পড়ুক, কাঁটা পড়ুক, কাঁটা পড়ুক। সমবেত, সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের এই প্রাঙ্গণের বুকেই তো এমন সাহস দেখানো সম্ভব। আর হ্যাঁ, নিজের দুই মায়ের পেটের বোনও ছিলেন আজকের এই সুন্দর দিনে।
