Kuno National Park : ভারতে ইতিহাস! মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে শুরু চিতা সাফারি, কাছ থেকে দেখার সুযোগ দ্রুততম বন্যপ্রাণীকে

অন্যান্য অফবিট ভ্রমণ

নিউজ পোল ব্যুরো: জঙ্গল ও বন্যপ্রাণী (Wildlife) প্রেমীদের জন্য দারুণ সুখবর! যদি প্রকৃতির বুকে ঘুরে বেড়ানো, বনের নীরবতা আর বন্যপ্রাণীর চলাফেরা আপনার মন কাড়ে, তবে এবার আপনার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। ইতিহাস গড়েছে ভারত—মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে (Kuno National Park) শুরু হয়েছে দেশের প্রথম চিতা সাফারি (Cheetah Safari)। এখানে আপনি দেখতে পাবেন পৃথিবীর দ্রুততম প্রাণীকে (Fastest Animal) একেবারে কাছ থেকে, তাদের স্বাভাবিক আবাসে।

মধ্যপ্রদেশের শেওপুর (Sheopur) জেলার অন্তর্গত এই কুনো ন্যাশনাল পার্কে ২০২২ সালে প্রথমবার আফ্রিকা থেকে চিতা আনা হয়। বর্তমানে পার্কে রয়েছে ১৬টি চিতা (Cheetah Population)। পর্যটকদের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট সাফারি পয়েন্ট নির্ধারিত হয়েছে—টিকটোলি (Tiktoli), আহেকা (Aheka) এবং পিপলবাওড়ি (Pipalbaori)। এখান থেকেই শুরু হবে রোমাঞ্চকর চিতা সাফারি, যেখানে আপনি চিতার পাশাপাশি অন্যান্য বন্যপ্রাণী যেমন হরিণ, নীলগাই, ও নানা প্রজাতির পাখিও (Bird Species) দেখতে পাবেন।

আরও পড়ুন : Travel Destination : বার্লিন-ফুকেটকে হারিয়ে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে অসমের জোরহাট! সেরা পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠছে ভারতীয় এই শহর

বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের (Wildlife Experts) পরামর্শ অনুযায়ী, চিতা দেখার সেরা সময় ভোরবেলা অথবা সূর্যাস্তের ঠিক আগে। কারণ, এই সময়েই চিতারা সবচেয়ে সক্রিয় থাকে এবং জঙ্গলের আলোও থাকে একদম নিখুঁত। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময় চিতা সাফারির জন্য সবচেয়ে আদর্শ, কারণ এই সময় আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল থাকে এবং দৃশ্যমানতাও (Visibility) ভালো থাকে। সাফারির খরচও খুব বেশি নয়। জিপসি সাফারি (Gypsy Safari) বা গাড়ি প্রতি খরচ প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা, যেখানে সর্বোচ্চ ছয়জন যেতে পারবেন। ব্যক্তিগত গাড়ি (Private Vehicle) নিয়ে গেলে প্রতি গাড়ি খরচ প্রায় ১২০০ টাকা। অনলাইনেই (Online Booking) কুনো ন্যাশনাল পার্কের অফিসিয়াল সাইটে সাফারি বুক করা যায়। সপ্তাহান্তে বা পর্যটনের মরশুমে (Tourist Season) দাম সামান্য বেড়ে যেতে পারে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

থাকার ব্যবস্থাও একদম সুবিধাজনক। চাইলে কাছের শহর গোয়ালিয়র (Gwalior) অথবা কোটায় (Kota) কোনও গেস্টহাউস বা রিসর্টে (Resort Stay) থাকতে পারেন। অনেক রিসর্টই এখন চিতা সাফারিকে নিয়ে প্যাকেজ (Tour Package) অফার করছে, তাই আগে থেকেই কথা বলে নেওয়াই ভালো। সবশেষে মনে রাখতে হবে, জঙ্গলের নিয়ম (Jungle Etiquette) অমান্য করলে বিপদ হতে পারে। আওয়াজ করবেন না, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ব্যবহার করবেন না (No Flash Photography), কিংবা বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করবেন না। গাইডের নির্দেশ (Guide Instructions) মেনে চলাই নিরাপত্তার প্রথম শর্ত। কারণ, চিতা সাফারি শুধুমাত্র এক রোমাঞ্চ নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে এক নিবিড় সম্পর্কের অভিজ্ঞতা।