নিউজ পোল ব্যুরো: ভক্তির আবেশে, পুষ্পবৃষ্টিতে, আর পায়রার ডানায় ভেসে গেল নৈহাটির বড়মার (Naihati) বিসর্জন পর্ব। প্রতি বছরের মতো এ বছরও নৈহাটির অরবিন্দ রোডে আয়োজিত হল ঐতিহ্যবাহী বড়কালী পুজো (Kali Puja 2025) সমিতি ট্রাস্টের বিসর্জন অনুষ্ঠান। তবে এবার এক নতুন বার্তা দিলেন আয়োজকেরা। ‘ভক্তির চেয়ে বড় আর কিছু নয়’। বলির জন্য রাখা ১১টি পায়রাকে উড়িয়ে মুক্তির বার্তাই পৌঁছে দিলেন তারা সমগ্র অঞ্চলে।
শুক্রবার ভোর থেকেই শহর জেগে উঠেছিল ‘জয় বড়মা’ (Kali Puja 2025) ধ্বনিতে। সকাল সাতটা নাগাদ শুরু হয় বিসর্জনের পূজো। গঙ্গার ঘাট থেকে নৈহাটি (Naihati) রেলস্টেশন পর্যন্ত তখন জনসমুদ্র। নিরাপত্তার খাতিরে মোতায়েন ছিল হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী, বম্ব স্কোয়াড ও তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। আকাশে ছিল ড্রোনের তীক্ষ্ণ নজরদারি, গঙ্গায় বন্ধ রাখা হয়েছিল ফেরি চলাচল। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলিধর শর্মা ও ডিসি (নর্থ) গণেশ বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে সব কিছুই সম্পন্ন হয় নির্বিঘ্নে।
দুপুরের পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে বিলি হয় দধিকর্মা। সোনা-রূপোর গয়না খুলে দেবীকে (Kali Puja 2025) সাজানো হয় ফুলে ফুলে। তখন অরবিন্দ রোড থেকে ঘাট পর্যন্ত ছিল তিলধারণের জায়গা নেই এমন ভিড়। পুজো সমিতির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য, পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণে।
দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ দেবীর বরণ সম্পন্ন হয়। তারপর থেকেই গঙ্গার দিকে যাত্রাপথ ফাঁকা করা শুরু করে পুলিশ। বিকেল ৪টে ২০ মিনিটে প্রথমবারের মতো বড়মার দড়িতে টান পড়ে শুরু হয় নিরঞ্জন যাত্রা। রাস্তার দু’পাশে ছাদভর্তি মানুষ, আকাশে পুষ্পবৃষ্টি আর বাতাসায় গঙ্গার পাড় ভরে ওঠে ‘জয় বড়মা’ আর ‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’ ধ্বনিতে।
ঠিক তার আগেই বড়মা ফেরিঘাট থেকে মুক্তি দেওয়া হয় বলির জন্য নির্ধারিত ১১টি পায়রাকে। পাশাপাশি পাঁঠা বলির প্রথাও ত্যাগ করেছে ট্রাস্ট। তাপস ভট্টাচার্য জানান, “আমরা এবার বলি বন্ধ করেছি। দেবীকে উৎসর্গের আসল অর্থ হল দয়া আর ভক্তি।” লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হল নৈহাটির এই ঐতিহ্যবাহী বিসর্জন উৎসব। পুষ্পসজ্জা, পায়রার মুক্তি আর ভক্তির অগাধ স্রোতে ভেসে গিয়ে যেন বার্তা মিলল ভক্তি মানেই মানবতা, বড়মা সবার।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
