প্রদীপ দলুইঃ ব্যোম ফেলেছে জাপানী। কিন্তু সে বোমা ইদানিংকালে ফেলা নয়। ভারতের স্বাধীনতার ঠিক আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World war Bomb) সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে জাপান লড়াই করছিল। আর তার ফলশ্রুতিতে কলকাতা ছিল জাপানের টার্গেট। সেই বোমা যেগুলি ফাটেনি বাংলার বিভিন্ন জায়গায় আজও উদ্ধার হচ্ছে। নানুরের লাউদহ সংলগ্ন অজয় নদের তীরে ফের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা উদ্ধারে ব্যাপক চাঞ্চল্য। বুধবার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের তীব্রতা ও কম্পনে কেঁপে উঠেছিল গোটা লাউদহ এলাকা, আর তার পরদিনই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলেদের জালে উঠে আসে আরও একটি একই ধরনের বোমা। আগের বিস্ফোরণের স্থান থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে এই দ্বিতীয় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলিতে।
[আরও পড়ুন] http://রাজারহাটে তাপস দাদার ব্যতিক্রমী ভাইফোঁটা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সন্ধ্যায় জেলেদের জালে ফের উদ্ধার হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World war Bomb)একই রকমের একটি বোমা। জানাজানি হতেই এলাকার মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই খবর পৌঁছয় বোলপুর থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বোমাটিকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও, যাতে কেউ নিষিদ্ধ জায়গায় প্রবেশ না করে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনীকে ইতিমধ্যেই খবর দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিস এলাকাটিকে ঘিরে রেখেছে।
প্রসঙ্গত, বুধবারের বিস্ফোরণের অভিঘাতে অজয় নদের তীরে তৈরি হয়েছিল বিশাল গর্ত, সেই কম্পনে এখনও ভীত স্থানীয়রা। নতুন করে আরও একটি বোমা উদ্ধার(World war Bomb) হওয়ায় তাদের আতঙ্ক স্বাভাবিকভাবেই বহুগুণ বেড়েছে। এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, একের পর এক এই ধরনের বোমা উদ্ধার হওয়ায় রাতে ঘুমোতেও পারছেন না তাঁরা। প্রশাসনের কাছে তাঁদের একটাই অনুরোধ — যত দ্রুত সম্ভব বোমাটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হোক, যাতে কোনও বিপদ না ঘটে।
অজয় নদ ঘেঁষা লাউদহ অঞ্চলে এখন অজানা আশঙ্কার ছায়া। বিস্ফোরণের শব্দ থেমে গেলেও ভয়ের কম্পন এখনও গেঁথে আছে মানুষের মনে।
