নিউজ পোল ব্যুরোঃ রাজ্যে আজ নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক আয়োজিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ও চ্যালেঞ্জ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা, ‘Special Intensive Revision’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রয়াস। তবে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন — বিশেষ করে Trinamool ও BJP-এর—নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে । বর্তমান SIR প্রক্রিয়ায় ঘরোয়া স্তর থেকে শুরু করে জেলা ও রাজ্য পর্যায়ে দুই-স্তরের বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক দলের মতামত ও অভিযোগ যথাযথভাবে আলোচিত হয় । প্রথম ধাপে Booth Level Officers (BLO) প্রত্যেক বাড়িতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট Enumeration ফর্ম সংগ্রহ করবেন। কমিশন ঘোষণা করেছে, ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলগুলো আপত্তি বা সংশোধনের দাবি জানাতে পারবেন। ERO (Electoral Registration Officers) সেই আপত্তির নিষ্পত্তি করবেন। পুরো প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্যে। ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ডেটলাইন ঘোষণা করেছে কমিশন।
[আরও পড়ুন] http://SIR নির্বাচনী দপ্তর থেকে সাধারণ ভোটার, উত্তেজনা সর্বস্তরে
কমিশনের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ যা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে তাহল BLO-দের এক বড় অংশ এখনও দায়িত্ব নেয়নি। প্রায় ১,০০০ BLO-কে নির্দেশ লঙ্ঘনের দায়ে শোকজ করা হয়েছে, ফলে কাজের বাস্তব ভিত্তি পর্যালোচনা করে কাজটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এই মুহূর্তের সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যেখানে শুরুর আগে থেকেই তৃণমূল আর বিজেপি কার্যত আদাজল খেয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। কথার ফুলঝুরি ওড়াচ্ছে শুধুমাত্র বিরোধিতা করার জন্যই। তাই এই পর্যায়ের কার্যকারিতা নিয়ে বিরোধী দল, বিশেষ করে Trinamool Congress,আশঙ্কা প্রকাশ করেছে—“বহু বৈধ ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে” বা “সত্যিকারের ভোটারের নাম বাদ যাবে”— যা আন্দোলনের হুমকি আর কমিশনের কাছে চ্যালেঞ্জ। BJP ও কংগ্রেস ভোটার তালিকা পরিশুদ্ধকরণে বিদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার কথা বললেও, তৃণমূল এটাকে ভোটার বিভাজন এবং সংখ্যালঘু লক্ষ্যবস্তু করার কেন্দ্রীয় চাপ হিসেবেই দেখছে । কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ — রুটিন সংশোধন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সময়ানুবর্তী রেখে নির্বাচন উদ্দীপনা উসকে না দেওয়া । মাঠে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সময় সংকট (আগামী বছর রাজ্যে নির্বাচন), এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা — সব মিলিয়ে Voter Exclusion এবং গোপন পক্ষপাতের অভিযোগ সহজেই উঠতে পারে ।
নির্বাচন কমিশন চায়, “ভোটার তালিকা স্বচ্ছ ও নির্ভুল হোক, যাতে গণতন্ত্রের ভিত্তি—ভোটাধিকার—নিশ্চিত থাকে।” SIR-এর প্রাথমিক স্তরে BLO-র মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা ভালো উদ্যোগ, তবে মাঠ পর্যায়ে BLO-দের অনাগ্রহ ও প্রশাসনিক গাফিলতি বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে—কারা বাদ পড়ছে, কারা যুক্ত হচ্ছে , তথ্য জালিয়াতির বা পক্ষপাতের আশঙ্কা। যা টাকা খরচ করে অনুপ্রবেশকারিরা সংগ্রহ করতে পারে। সরকারি কর্মচারী প্রক্রিয়ার ভিতরে বসেই টাকা নিয়ে জাল কাগজ সরবরাহ করতে পারে, অনেক সময় করেও থাকে। রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বলছে, রাজ্যে কেন্দ্রীয়-বিরোধী আবহে বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াবে এবং কমিশনের সময় বন্ধনী আর কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে । এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সকল দলের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এটাই আগামী নির্বাচনের গণতান্ত্রিক শুদ্ধতা ও সাংবিধানিক মর্যাদার আসল পরীক্ষা । সময় বলবে সেই অগ্নিপরীক্ষায় কমিশন উত্তীর্ণ হয়েছে কিনা।
