Bihar Election : বিহারে খুন জখমের রাজনীতি চলছেই

oftbeat অপরাধ রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরোঃ বিহার রাজ্যে (Bihar Election) চলমান বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে খুনজখম, গুলির লড়াই, এবং অপরাধের ধারাবাহিকতায় রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। নির্বাচনী হিংসা ও সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম দেখলে এই তত্ত্ব স্পষ্ট হবে। গত সপ্তাহে পটনার মোকামায় জনসুরজ পার্টির কর্মী দুলারচাঁদ যাদবকে ভোট প্রচারের সময় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় । দুলারচাঁদ যাদব কোনো একসময় আলোচিত নেতা এবং লালু প্রসাদের ঘনিষ্ঠ হলেও, সম্প্রতি জনসুরজ পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ও সংঘাতের শিকার হন । এই ঘটনাকে ঘিরে জনসুরজ ও বিরোধী শিবির শাসক জেডিইউ ও স্থানীয় বাহুবলী রাজনীতিকদের দিকে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে। জেডিইউ-র প্রার্থী অনন্ত সিং এবং আরজেডির প্রার্থী বীণা দেবীর মধ্যে মোকামা আসনে শক্তিশালী নির্বাচনী লড়াই চলছে । অপরাধবৃদ্ধি ও পরিসংখ্যান যেন বেড়েই চলেছে।
[আরও পড়ুন]   http://SIR ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে পথে মমতা-অভিষেক, ৪ নভেম্বর কলকাতায় তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন

বিহারে চলতি বছর জানুয়ারি – জুন সময়কালে ১,৩৭৬টি হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে; অর্থাৎ মাসে গড়ে ২২৯টি হত্যার ঘটনা ঘটছে । ২০২৪ সালে মোট ২,৭৮৬ এবং ২০২৩-এ ২,৮৬৩ টি হত্যাকাণ্ড হয়, যা বিহারকে ভারতের অন্যতম ‘হিংসাপ্রবণ’ রাজ্য হিসেবে তুলে ধরছে । রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলির অবাধ প্রবাহই এই হিংসার মূল কারণ । চক্রাকারে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, শিক্ষক—এমনকি সাধারণ নাগরিকও স্বয়ং সম্পূর্ণ। যে রাজ্য থেকে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আই পি এস, আই এ এস যোগ দিচ্ছে প্রশাসনে, সেই রাজ্যে এই ব্যাপক হিংসা একেবারেই মানানসই হয় না। গত ১০ দিনে বেশ কয়েকটি খুন হয়েছে। রাজনীতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে বিহার এখনও জমিদারি বা সামন্ত যুগে বাস করছে। দুলারচাঁদ যাদব হত্যাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দলের নেতা থেকে বিরোধী শিবির পর্যন্ত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং “গণতন্ত্রের ওপরে আঘাত”—এভাবে রায়ও দিয়েছে । তেজস্বী যাদব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চান ও বলেছেন, রাজ্যে শাসনব্যবস্থার চরম ধ্বংস হচ্ছে । পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বিস্তর মতবিরোধ রয়েছে, এনকাউন্টার ও কেস রেজিস্ট্রেশন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে । ঐতিহাসিকভাবে মাফিয়া এবং ‘বাহুবলী’ রাজনীতির চোরাবালিতে বিহারের বিভিন্ন ক্ষমতা বলয় সাধারণত ‘নিয়ম’ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে– আজও। আছে কাস্ট-ভিত্তিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার রাজনীতি। যা দীর্ঘদিন ধরেই সমাজকে বিপন্ন করে তুলেছে । বিহারে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে অপরাধের আন্তঃসম্পর্ক এখন ইন থিংক। চর্চিত বিষয়। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাজ্যবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ভোটের আগেই আরও কিছু সংঘর্ষ এবং খুনের আশঙ্কা তাই স্বতঃসিদ্ধ ।