নিউজ পোল ব্যুরো:রাজ্যে ভোটের অনেক আগেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তপ্ত লড়াই।ইলেকশন কমিশনের ‘এসআইআর’ (SIR controversy West Bengal) প্রক্রিয়া ঘিরে তৃণমূল,বিজেপি ও বাম শিবিরের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি।একদিকে বিজেপির দাবি,-এই প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ভোটার ও অনুপ্রবেশকারীরা ধরা পড়বে,অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ—কমিশন বিজেপির ট্র্যাপে পা দিয়ে রাজ্যে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করছে।এই প্রেক্ষিতেই শ্রীরামপুরের সভা থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।তিনি বলেন,-“গর্তে কার্বলিক অ্যাসিড ঢেলে দিয়েছে কমিশন।কার্বলিক অ্যাসিড ঢালার পর সাপগুলো বেরিয়ে পড়েছে।প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বাংলাদেশি মুসলিম রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে।৮ তারিখের আগে বাংলাদেশিরা পালাও!”
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/11/02/inttuc-leader-detention-camp-remark-sir-controversy/
শুভেন্দুর আরও বক্তব্য—“এসআইআর (SIR controversy West Bengal) যদি আতঙ্কের না হয়,তাহলে ১২টা রাজ্যে হচ্ছে,স্ট্যালিন সাহেবের রাজ্যেও হচ্ছে।শুধু বিজেপি শাসিত নয়,নন-বিজেপি রাজ্যেও হচ্ছে।কোথাও হইচই নেই,মিছিল নেই,গেল গেল রব নেই।একমাত্র বাংলাতেই এত উত্তেজনা।কারণ কমিশন গর্তে কার্বলিক অ্যাসিড ঢেলে দিয়েছে,আর সাপগুলো এখন বেরোচ্ছে!”বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের পরই তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা আক্রমণে নামেন।তাঁর বক্তব্য—“ইলেকশন কমিশন এখন বিজেপির ট্র্যাপে পড়েছে।পরশু থেকে বিএলওরা বাড়ি বাড়ি যাবে,এনুমারেশন ফর্ম দেবে—এই গোটা কাজটাই বিজেপির চক্রান্ত।অপদার্থ বিজেপি নেতারা এখন কমিশন,সিবিআই আর অন্যান্য সংস্থার ভরসায় নির্বাচন জিততে চাইছে।কিন্তু কিছুই হবে না—৩০টা আসনও পাবে না।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
বুথ বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,-“যদি ২০০২ সাল বেস লেভেল হয়,তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিকে ধরে বুথ বাড়ানো হল কেন!২০২৫-এর ভোটার লিস্ট অনুযায়ী বুথ বাড়ানো মানেই সাইলেন্ট রিগিং—বিজেপির পক্ষে কমিশনের নিঃশব্দ সাহায্য।”অন্যদিকে,এসআইআর নিয়ে ভোটারদের সচেতন করতে যাদবপুরে ক্যাম্প করেছে সিপিএম।দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন—“এই এসআইআর-এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন গরিব মানুষরা,যাদের হাতে পর্যাপ্ত কাগজ নেই। বিজেপি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গরিবদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে,আর ইলেকশন কমিশন তাদের সেই কাজেই সাহায্য করছে।”সব মিলিয়ে,ভোটের অনেক আগেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে।একদিকে শুভেন্দুর ‘কার্বলিক অ্যাসিড’ মন্তব্যে তৃণমূল ও বাম শিবিরের ক্ষোভ,অন্যদিকে কমিশনকে নিশানা করে পাল্টা অভিযোগের ঝড়।রাজনীতির মাঠে এখন একটাই আলোচ্য— এসআইআর ঘিরে শুরু হয়েছে আগাম ভোটযুদ্ধ!
