নিউজ পোল ব্যুরো: নয়াদিল্লিতে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনার পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভারত সফর ঘিরে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছিল। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের একাংশ দাবি করেছিল, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় তিনি তাঁর নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন। তবে এই জল্পনায় জল ঢেলে সম্প্রতি নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সফরের নতুন দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।
প্রথমে ঠিক ছিল চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই তিনি ভারতে আসবেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আপাতত সেই সূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। নেতানিয়াহুর অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়, মোদির নেতৃত্বে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। পাশাপাশি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কও বন্ধুত্বপূর্ণ ও গভীর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
SIR: আধার বাধ্যতামূলক ভোটার সংশোধনে, নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শেষবার ভারতে পা রেখেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তার পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ সাত বছর। এই সময়কালে সামরিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি, কূটনীতি ও বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। শুধু তাই নয়, দুই রাষ্ট্রনেতা নিয়মিত একে অপরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণও দিয়েছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটেও এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নয়াদিল্লির উপর আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘রাজি করানোর কৌশল’ তিনি জানেন এবং সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গোপনে কিছু পরামর্শ দিতে আগ্রহী। এছাড়াও, ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশে সফর করলে ইজরায়েলে তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সফর বাতিল নয়, বরং সাময়িক স্থগিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই নেতানিয়াহুর ভারত সফরের দিনক্ষণ পুনরায় ঘোষণা হবে এবং সেই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
