The Longest Solar Eclipse: ২০২৭-এ বিরল সূর্যগ্রহণে ঢাকবে সূর্য, বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব

বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: ২ আগস্ট, ২০২৭ সালে আকাশে ঘটতে চলেছে এক অভূতপূর্ব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা , যা হল দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, যেটি চলতি শতাব্দীর অন্যতম বিস্ময় হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে (The Longest Solar Eclipse)। এই গ্রহণের সময় চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে আড়াল করবে এবং গ্রহণের কেন্দ্ররেখায় অবস্থানকারী এলাকাগুলিতে টানা প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত দিনের আলো প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: SIR: আধার বাধ্যতামূলক ভোটার সংশোধনে, নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট

এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের যাত্রা শুরু হবে আটলান্টিক মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশির উপর দিয়ে, তারপর ধীরে ধীরে জিব্রাল্টার প্রণালীর নিকটে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। এর পূর্ণগ্রহণের পথ দক্ষিণ স্পেন অতিক্রম করে মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া ও মিশরের উপর দিয়ে বিস্তৃত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে পৌঁছাবে। যেহেতু এই অঞ্চলগুলি ঘন জনবসতিপূর্ণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নত, তাই ওই দিন বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক ও আকাশপ্রেমী মানুষ এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করতে সেখানে সমবেত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ অঞ্চল, এমনকি ব্রাজিলও এই গ্রহণ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবে না। পূর্ণগ্রহণ অঞ্চলের ভেতরে থাকা মানুষজন দেখবেন কীভাবে উজ্জ্বল সূর্যালোক ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে গভীর গোধূলিতে পরিণত হয়। চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিলে আকাশে নেমে আসবে এক অদ্ভুত অন্ধকার, আর তখন সূর্যের চারপাশে দৃশ্যমান হবে তার রহস্যময় আলোকমালিকা বা করোনা। এই সময় সৃষ্টি হবে দৃষ্টিনন্দন “ডায়মন্ড রিং ইফেক্ট”, যেখানে সূর্যের শেষ আলো হীরার মতো ঝলমল করে উঠবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole

গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া শুরু হবে পূর্ণগ্রহণের প্রায় এক ঘণ্টা আগে। প্রথমে সূর্যের একাংশ ঢেকে যাবে, এরপর ধীরে ধীরে অন্ধকার তীব্র হবে। অবস্থানভেদে এই পূর্ণ অন্ধকার কয়েক সেকেন্ড থেকে ছয় মিনিটের বেশি স্থায়ী হতে পারে। পরে আবার সূর্য ধীরে ধীরে উদিত হতে থাকবে, যা প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। এই বিরল মুহূর্তে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে, বাতাসের গতি বদলাতে পারে এবং পাখি বা প্রাণীদের আচরণেও দেখা দিতে পারে অস্বাভাবিকতা। আকাশ যথেষ্ট ঘন অন্ধকার হলে শুক্র, বুধসহ কয়েকটি উজ্জ্বল গ্রহ ও নক্ষত্রও চোখে পড়তে পারে। যদিও পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রায় প্রতি দেড় বছরে একবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে, কিন্তু এত দীর্ঘ সময় ধরে এবং এত বিস্তৃত জনবহুল অঞ্চলে দৃশ্যমান গ্রহণ বিরলই বটে। সেই কারণেই ২০২৭ সালের এই সূর্যগ্রহণ বিজ্ঞানী, গবেষক ও মহাকাশ অনুরাগীদের কাছে এক স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে উঠতে চলেছে।