নিউজ পোল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই (BR Gavai) আবারও ‘বুলডোজার’ ব্যবহারের সমালোচনায় মুখ খুলেছেন। বিভিন্ন রাজ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নির্দিষ্ট বাড়ি ভাঙার জন্য বুলডোজার ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে গাভাই (BR Gavai) জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সংবিধানবিরুদ্ধ। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে প্রশাসন নিজেই অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কাজ করছে, অথচ কোনোরকম বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: Kunal Ghosh: হাসপাতালে কুণাল ঘোষ, আরোগ্য কামনায় রাজ্যপাল-মন্ত্রীদের আনাগোনা
গাভাই (BR Gavai) জানান, এক ধরনের সম্মিলিত শাস্তি কার্যকর করা হচ্ছে। “যদি কোনও নাগরিক অপরাধে যুক্ত বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার পরিবারের অপরাধ কী? কেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বাড়িও বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করতে হবে?” তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন। তার মতে, এই ধরণের ব্যবস্থা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিচারকত্বের অবৈধ প্রয়োগ। পাশাপাশি, এটি শুধু অভিযুক্তের নয়, পুরো পরিবারের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে গাভাই আরও বলেছেন, সংবিধান দ্বারা প্রদত্ত অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচারিক সত্তা বা আদালত না হয়ে প্রশাসন যদি নিজেই শাস্তি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তা সংবিধানবিরুদ্ধ এবং সমাজে ন্যায়বিচারের নীতিকে ক্ষুন্ন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি পরবর্তীকালে বাড়ি ভাঙার ঘটনা বেআইনি প্রমাণিত হয়, তবে সেই বাড়িটি সরকারকে পুনঃনির্মাণ করতে হবে। এবং সংশ্লিষ্ট দোষীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।”
গাভাই বুলডোজারের ব্যবহারকে কার্যত রাষ্ট্রীয়ভাবে অপরাধীর পরিবার ও নিরপরাধ বাসিন্দাদের উপর শাস্তি আরোপের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন। তিনি মনে করেন, সংবিধান প্রণীত মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য বিচারিক অ্যাক্টিভিজম জরুরি হলেও তা সর্বদা সীমার মধ্যে থাকতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায় শাস্তি আরোপের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি প্রশাসন এমন পদক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তাহলে অনেক নিরপরাধ মানুষ অপ্রয়োজনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বুলডোজার ব্যবহারের প্রথা অবিলম্বে সমাপ্ত করা উচিত।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
