BLO : বিএলও-দের পারিশ্রমিক নিয়ে জট কাটল, ৬১ কোটি টাকা ছাড়ল নবান্ন

কলকাতা

নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্লক লেভেল অফিসারদের (Election Commission)পারিশ্রমিক নিয়ে অবশেষে জট খুলল। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ না আসায় নির্বাচন কমিশন বিএলও-দের (BLO) প্রাপ্য টাকা দিতে পারছিল না। সেই কারণেই নবান্নকে (Nabanna) চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত অর্থ পাঠানোর আবেদন জানানো হয়েছিল। অবশেষে নবান্ন (Nabanna) থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : Child Health : শিশুখাদ্যে কাঁচা নুন বিপজ্জনক! সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

নবান্নের (Nabanna) তরফে জানা গিয়েছে, বিএলও-দের (BLO) পারিশ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ভাতা বাবদ মোট ৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দের আওতায় প্রায় ৮১ হাজার বিএলও ছাড়াও অ্যাসিস্ট্যান্ট বিএলও (BLO), ইআরও (Electoral Registration Officer) এবং এআরও-দের (Assistant Electoral Registration Officer) ভাতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই মোট টাকার অঙ্ক ভাগ করলে মাথাপিছু গড়ে প্রায় ৬ হাজার টাকার মতো পড়ে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, চলতি বছরে বিএলও-দের পারিশ্রমিক প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। আগের বার যেখানে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হত, এবার তা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার টাকা। তার সঙ্গে বিশেষ ভাতা যোগ হয়ে একজন বিএলও মোট ১৪ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। আর বিএলও সুপারভাইজ়ারদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। এই পরিস্থিতিতে মাত্র ৬১ কোটি টাকা আদৌ পর্যাপ্ত কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কমিশন বরাদ্দ অনুমোদন করলেও সময়মতো অর্থ না আসায় এতদিন তাদের টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

বাস্তবে বিএলও-দের (BLO) কাজের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা, ভোটারদের কাছ থেকে সেই ফর্ম পূরণ করানো, পরে সেই তথ্য অনলাইনে পোর্টালে আপলোড করা—এই সমস্ত দায়িত্বই তাদের কাঁধে থাকে। এবার স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ কাজ শেষ করার চাপ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের নিজেদের খরচে স্মার্ট ফোন কিনে কাজ করতে হচ্ছে বলে দাবি বিএলও-দের একাংশের। এই কারণেই এবার পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিতে তারা কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই কমিশন পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে রাজ্য থেকে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। অবশেষে টাকা আসায় স্বস্তি ফিরল বিএলও-দের মধ্যে। তবে ভবিষ্যতে যাতে এমন দেরি না হয়, সেই দাবিও তুলেছেন তারা।