নিউজ পোল ব্যুরো: নুন (Salt) রান্নার এমন এক অপরিহার্য উপাদান, যার সামান্য এদিক-ওদিক হলেই খাবারের স্বাদ বদলে যায়। কম হলে খাবার বিস্বাদ, আবার বেশি হলে স্বাদ নষ্ট। ঠিক যেমন রান্নায় নুনের (Salt) পরিমাপ জরুরি, তেমনই শরীরের সুস্থতার জন্যও দৈনিক কতটা নুন গ্রহণ করছি, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত নুন শরীরে নানা সমস্যা ডেকে আনে, বিশেষত হৃদ্যন্ত্রের উপর এর প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়ে অতিরিক্ত নুনে। শুধু বড়দের ক্ষেত্রেই নয়, শিশুদের খাদ্যাভ্যাসেও নুনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Child Health)।
আরও পড়ুন : Fragmentation : পদার্থবিজ্ঞানে নতুন সূত্র আবিষ্কার! ভঙ্গুর বস্তু ভাঙার রহস্য উন্মোচিত
শিশু (Child Health) চিকিৎসকদের মতে, জন্মের পর থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর একমাত্র খাদ্য হওয়া উচিত মাতৃদুগ্ধ। এই সময়ে শিশুর শরীরে আলাদা করে নুনের (Salt) কোনও প্রয়োজন নেই। ৬ মাস পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে শিশুকে শক্ত খাবারে অভ্যস্ত করানো শুরু হয়। তবে এই পর্যায়েও খাবারে নুন (Salt) দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন চিকিৎসকেরা। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ১ বছরের কম বয়সি শিশুদের কখনওই নুন দেওয়া উচিত নয়, কারণ সেই সময় শিশুর কিডনি নুনের অতিরিক্ত চাপ সামলানোর মতো পরিপক্ব হয়ে ওঠে না (Child Health)। ১ বছর পূর্ণ হওয়ার পর থেকে অল্প পরিমাণে নুন দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু কাঁচা নুন খাওয়ানো একেবারেই অনুচিত।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ১ থেকে ৩ বছর বয়সি শিশুদের দৈনিক সর্বোচ্চ ২ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় আধ চা চামচ নুন দেওয়া যেতে পারে। ৪ থেকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত এবং তার পরেও ধীরে ধীরে তা বাড়িয়ে দৈনিক ৩ গ্রাম পর্যন্ত করা যেতে পারে। তবে এই পরিমাণটি সারা দিনের মোট খাবারের জন্য নির্ধারিত, এর বেশি নয়। অনেক অভিভাবকের মনেই প্রশ্ন থাকে—সাধারণ আয়োডিনযুক্ত নুন না কি সৈন্ধব লবণ (Rock Salt), কোনটি শিশুর জন্য বেশি উপযোগী? চিকিৎসকেরা মনে করেন, বর্তমানে সৈন্ধব নিয়ে অতিরিক্ত প্রচার হলেও এতে সাধারণত আয়োডিন থাকে না। আয়োডিন শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ ও থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ১ বছর বয়সের পর থেকে শিশুর জন্য আয়োডিনযুক্ত নুনই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী পছন্দ (Child Health)।
