নিউজ পোল ব্যুরো: গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে নতুন বছরের শুরুতেই গঙ্গাসাগর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৫ জানুয়ারি তিনি গঙ্গাসাগরে (GangaSagar) পৌঁছবেন। সেখানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করার পাশাপাশি একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর নতুন সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন তিনি। এই সেতু নির্মিত হলে গঙ্গাসাগরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তীর্থযাত্রীদের বহুদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে প্রশাসনের আশা।
আরও পড়ুন: Donald Trump: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ! এপস্টেইন ফাইল থেকে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
এর আগেই নবান্নে (Nabanna) গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। এবার সরাসরি ময়দানে নেমে প্রস্তুতির শেষ খুঁটিনাটি নিজে খতিয়ে দেখতে চাইছেন তিনি। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি সাগরে পৌঁছে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে ৬ জানুয়ারি কলকাতায় (Kolkata) ফেরার কথা তাঁর। নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মুড়িগঙ্গার উপর প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে, যা চার বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে। কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা না পেলেও রাজ্য সরকার নিজস্ব অর্থেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
আগামী ১৪ জানুয়ারি পৌষ সংক্রান্তির দিনে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। তবে মেলা শুরু হচ্ছে ১০ জানুয়ারি থেকে এবং চলবে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ বছর কুম্ভমেলা না থাকায় গঙ্গাসাগরে ভিড় গতবারের তুলনায় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। সেই কারণে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি সাড়ে তিন হাজার প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন।
পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থাপনা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিদ্যুৎ ও সাফাইয়ের ওপর নজর রাখা হবে। প্রত্যেক পুণ্যার্থীর হাতে রিস্ট ব্যান্ড ও পরিচয়পত্র দেওয়া হবে এবং বিমার ব্যবস্থাও থাকবে। নিরাপত্তার জন্য ড্রোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। যাতায়াতের জন্য থাকছে প্রায় আড়াই হাজার বাস, ২৫০টি লঞ্চ, ১৯টি বার্জ এবং ২১টি জেটি। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সব দিক খতিয়ে দেখে প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির রিপোর্ট পেশ করবে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
