নিউজ পোল ব্যুরো: আজকের পড়াশোনার জগৎ পুরোপুরি স্মার্ট। খুব অল্প বয়সেই শিশুদের হাতে উঠে যাচ্ছে স্মার্টফোন। টলমল পায়ে হাঁটতে শেখা শিশুও অনায়াসে রিল দেখে, আঙুলের ছোঁয়ায় একের পর এক স্ক্রিন বদলে ফেলে। প্রযুক্তির এই দ্রুতগতির দুনিয়ায় বড়রাও অবাক হন। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও একটি প্রথা আজও অটুট, সরস্বতী পুজোয় স্লেট-চকে হাতেখড়ির মাধ্যমে পড়াশোনার আনুষ্ঠানিক সূচনা।
আরও পড়ুন:cooking tips: ঠাকুরের ভোগে খিচুড়ি রান্নায় সাবধান! যে ভুলগুলো একেবারেই করবেন না
যুগ বদলেছে, বদলেছে স্মৃতি ধরে রাখার ধরনও। এখন হাতেখড়ির মুহূর্ত মানেই ক্যামেরাবন্দি ছবি, ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার। তাই শুধু শিশুর সাজপোশাক নয়, বদলে গেছে হাতেখড়ির স্লেটের চেহারাও। সাধারণ স্লেটের বদলে এখন দেখা যাচ্ছে রঙিন, নকশাদার, ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী তৈরি স্লেট। অনলাইনে (Custom Slate) অর্ডার দিলেই সন্তানের নাম লেখা, বিশেষ ডিজাইনের স্লেট ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে বাজারের উপর নির্ভর না করে চাইলে ঘরেই বানিয়ে নেওয়া যায় একেবারে নিজের মতো হাতেখড়ির স্লেট। প্রথমে স্লেটের কাঠের ফ্রেমটি পছন্দের রঙে রাঙিয়ে নিন। বাজারে সহজেই পাওয়া যায় অ্যাক্রেলিক রং, যা এই কাজের জন্য আদর্শ। এরপর লাল, হলুদ বা নীল রঙের সিল্কের কাপড় বা ফিতে কেটে ফ্রেমের চারপাশে ফ্রিলের মতো লাগাতে পারেন। উপরে সাদা লেস বসালে স্লেট আরও সুন্দর দেখাবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
স্লেটের কালো অংশে সাদা রঙে সন্তানের নাম বা ‘হাতেখড়ি’ শব্দটি তুলির টানে লিখে দিন। নকশার প্রতি আগ্রহ থাকলে ধার বরাবর আলপনা, কল্কা বা লতাপাতার নকশা আঁকা যেতে পারে। কাপড় ব্যবহার করতে না চাইলে রেডিমেড লেস বা লালচে গামছা কেটে ফ্রেম ঢেকেও সাজানো যায়। সেই অংশে ছোট করে অ-আ-ক-খ বা স্বরবর্ণ লিখে দিলে শিক্ষার আবহ আরও স্পষ্ট হয়। যাদের আঁকিবুকির শখ আছে, তাঁরা স্লেটের কাঠের অংশে বীণা, হাঁস কিংবা সরস্বতী পুজোর অন্যান্য অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তুলতে পারেন। উপযুক্ত বেস রঙের উপর রঙিন নকশা স্লেটকে করে তুলবে একেবারে আলাদা। এভাবেই স্মার্টফোনের যুগেও হাতেখড়ির ঐতিহ্য নতুন রূপে, নতুন সাজে আরও স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারে।
