নিউজ পোল ব্যুরো: বুধবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বাংলার এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানি ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সামনে এল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এদিন মামলাটি পুনরায় শুনানি হয়। এর আগে গত ২৪ মার্চও এই মামলার শুনানি হয়েছিল। এদিন আদালত স্পষ্ট জানায়, বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া মানে তাদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জানান, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো রিপোর্টে আদালত সন্তুষ্ট। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৭ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি জানানো হয়, যেখানে নথির সত্যতা নিয়ে সংশয় থাকবে, সেখানে আপিল ট্রাইব্যুনাল তা খতিয়ে দেখবে। আদালতের মতে, দ্রুততার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালগুলিও কাজ শুরু করবে।
আরও পড়ুন: Weather Update : বৃষ্টির দাপট কমছে, বাড়ছে তাপমাত্রা! তবে ঝড়-বৃষ্টির ভ্রুকুটি বজায় বাংলায় আজও
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান (Shyam Divan) আদালতে জানান, ৬ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কার্যত অসম্ভব। রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা বলা হলেও এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ তালিকা ডাউনলোড করা যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে, তবে সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ নিশ্চিত করা হবে। পরে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হাই কোর্টের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে ৭ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত নামের নিষ্পত্তি সম্পূর্ণ হবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, বুধবার থেকেই সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হবে। যদিও এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বক্তব্য, কমিশন কীভাবে প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণ দেয়, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন এবং তাঁদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। এই জবাবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, প্রশিক্ষণ নিয়ে আপত্তির কারণ নেই এবং বিচারপতিরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নেবেন। পাশাপাশি আদালত জানায়, বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। ফর্ম ৬ জমা পড়া নিয়েও আপত্তি ওঠে শুনানিতে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও বিপুল সংখ্যায় ফর্ম জমা পড়ছে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইন অনুযায়ীই এই প্রক্রিয়া চলছে এবং সব অভিযোগ খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
