মা দুর্গার আগমনের আগেই বাংলায় অসুর বধ শুরু! বারুইপুরের ধর্ষক এনকাউন্টারে খতম হতেই গর্জে উঠল কামদুনি-কুলতলি!

breakingnews অপরাধ আইন রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: পার্ক স্ট্রিট থেকে কামদুনি— বারবার নারকীয় ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কেঁপে উঠেছে বাংলার মাটি। কিন্তু প্রতিবারই বিচারের আশায় বছরের পর বছর কেটে যায় পীড়িত পরিবারগুলোর। ঠিক এই আবহেই বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক নাবালিকাকে নির্মমভাবে গণধর্ষণ ও খুনের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে খতম হওয়ার খবর আসতেই যেন এক অভূতপূর্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল গোটা রাজ্য।

কিন্তু কেন এই এনকাউন্টারে এত খুশি সবাই? নিহত নাবালিকার বাবা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই এনকাউন্টারে আমি খুশি হয়েছি।” কামদুনি আন্দোলনের পরিচিত মুখ টুম্পা কয়াল ও মৌসুমী কয়ালও এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত, রাজ্যে অসুর বধ শুরু হয়ে গেছে।” একই সুর শোনা গেল কুলতলির নির্যাতিতা নাবালিকার মায়ের গলাতেও। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার মেয়ের বেলা তো বিচার পাইনি, আজ বারুইপুরের ঘটনায় এনকাউন্টার হয়েছে শুনে খুব খুশি হলাম।” শুধু এই পরিবারগুলোই নয়, এনকাউন্টারের পর স্বস্তিতে মেতে উঠেছে আমজনতার একটা বড় অংশ।

টুম্পা, মৌসুমী বা কুলতলির মা— এদের সবার ভাগ্যেই একটা নির্মম মিল রয়েছে। কারও বোন, কারও মেয়ে, আবার কারও কাছের মানুষকে নৃশংসভাবে শেষ করে দেওয়া হয়েছে, আর তারপর আদালতের চক্কর কাটতে কাটতে কেটে গেছে বছরের পর বছর। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা থেকে শুরু করে দেশের নানা প্রান্তে বারবার এই ধরনের নৃশংসতার পর তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। কিন্তু দীর্ঘ তদন্ত আর ক্লান্তিকর বিচার প্রক্রিয়ার শেষে অনেকেই পার পেয়ে যায়। এই ক্ষোভেরই কি বহিঃপ্রকাশ আজকের এই উৎসব? চেনা ছকের বাইরে এই অন-স্পট অ্যাকশন বা ‘ইনস্ট্যান্ট জাস্টিস’কেই এখন আসল বিচার বলে মনে করছেন মানুষ, আর তাই পুজো আসার আগেই বাংলায় শুরু হয়ে গেল অসুর বধ!