Bangladeshi infiltration: অবৈধ অনুপ্রবেশের আতঙ্ক রাজ্যে

রাজনীতি রাজ্য

চমকে ওঠার মত ঘটনা। এসএসবি(SSB) বা সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর কাছে গোপন খবর ছিল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী(infiltration) ভারতের জনতার ভিড়ে মিশে আছে। অথচ তাঁদের অনেকেই এদেশে এসেছে বৈধ ভিসার মাধ্যমে। কিন্তু তারপরেই এরা মিশে গেছিল এই দেশের জনগণের মধ্যে। দুই দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির মিল থাকায় একবার পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে পারলে সাধারণভাবে তাকে ধরে ফেলা বেশ কঠিন হয়ে পরে। চালের মধ্যে কাঁকড় বেছে নেওয়ার মতই কঠিন। তবু এরমধ্যেই ফের একবার শিলিগুড়ি মহকুমা এলাকায় নেপাল সীমান্তে গ্রেপ্তার তিনজন বাংলাদেশী। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। ধৃত তিনজনই বাংলাদেশের উত্তর বেরুবন্ড নীলফামারী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: Earthquake:আফগানিস্থান লড়ছে ভুমিকম্পের সঙ্গে

রাজ্যের চিকেন নেকে কড়া পাহারা রয়েছে। ফলে সেখান দিয়ে ইদানিং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারিদের ঢুকতে অসুবিধা হচ্ছে। তাই ইদানিং ভারত-নেপাল সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাড়ছে। তার উপরেও যে সত্যিটা সামনে চলে আসছে তা আরও বেশী চিন্তার,আরও বেশী প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচয় বহনকারী । এদেশে বসবাসকারী কোন এজেন্ট কিংবা আগের থেকে আসা ভারতের বৈধ নাগরিকের আত্মীয়তার সূত্র ধরে এদেশে চলে আসছে। তারপরেই এখানে ঘুষ ও অন্যান্য নানা পদ্ধতিতে, যেমন স্থানীয় নেতা বা সাইবার ক্যাফেতে বেশী টাকা খরচ করে বানিয়ে ফেলছেন নকল কাগজ। তারপরে অনেকেই পাকাপাকি ভাবে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। একবার যদি স্থানীয় নেতাদের হাত করে নিতে পারে, তাহলে এখানেই স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করে নিতে পারে। রাজ্যকে করিডর হিসেবে ব্যবহার করে এই অনুপ্রবেশকারিদের অনেকেই । বৈধ কাগজ বানিয়ে এদের অনেকেই দেশের অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারে। এর আগেও নেপাল সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার হয়েছে। এই ধরনের গ্রেফতারি রাজ্যের অন্য সীমান্ত শহরেও প্রায়ই ধরা পরে। সরকারি গোয়েন্দা বিভাগের অনেকগুলি সংস্থা থাকলেও কার্যত সেগুলি ঠুঁটো জগ্ননাথের থেকে বেশী কিছু করে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে না। তাদের ব্যর্থতার দায় এসে পড়ছে সাধারণ নাগরিকের ঘাড়ে। বার বার প্রমাণ দিতে হচ্ছে বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ। গোয়েন্দা বিভাগের এই হিমালয়ান্তিক অযোগ্যতার মধ্যেই তিন বাংলাদেশিকে ধরে ফেলল সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী। যা হিমশৈলের একটা সামান্য চূড়া মাত্র।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নেপাল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায় এসএসবির ৪১ নম্বর ব্যাটেলিয়ান। সেখানে তিন জনকে দেখে সন্দেহ হয় এসএসবি জওয়ানদের। তিনজনকে আটক করে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। ধৃতদের স্বীকারোক্তির জেরে খড়িবারি থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। ধৃত তিনজন বাংলাদেশী নাম অমল বর্মন (৫২) গৌতম বর্মন (২৬) প্রীতম বর্মন (২১)। এদের কেউ দর্জি ,কেউ টাইলসের কারিগর কিংবা কেউ রাজমিস্ত্রির কাজ করে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার পরে বেশ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে অনুপ্রবেশের হার। (infiltration)বাংলাদেশি ইস্যুতে একদিকে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে সাধারণ বৈধ নাগরিক হয়রান হচ্ছেন অবৈধ অনুপ্রবেশ ও তাকে ঘিরে কেন্দ্র – রাজ্যের দোষ আর পাল্টা দোষারোপে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

ধৃত তিনজনকে পুলিশ জেরা করে জানতে পেরেছে যে বিভিন্ন সময়ে তিনজন ভিসার সাহায্যে ভারতে প্রবেশ করলেও আর বাংলাদেশে ফিরে যায়নি। বারবার সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত।