CAA : কেন্দ্রের কড়া পদক্ষেপ: ডিটেনশন ক্যাম্প বাধ্যতামূলক, সিএএ আবেদনের মেয়াদ বাড়ল

দেশ রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া সিদ্ধান্তে ফের উত্তাল রাজনীতি। এতদিন পর্যন্ত অসমেই(Assam) সীমাবদ্ধ ছিল ডিটেনশন ক্যাম্পের(Detention Camp)ধারণা। কিন্তু সোমবার রাত থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনে বলা হয়েছে, এখন থেকে গোটা দেশেই ডিটেনশন ক্যাম্প(Detention Camp) গড়ে তুলতে হবে রাজ্য সরকারগুলিকে।

আরও পড়ুন: Bengali language: : বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি মানুষের মুখের ভাষা বাংলা

সন্দেহভাজন বিদেশি বা নথিপত্রে অসঙ্গতি থাকলে প্রাথমিক তদন্তের পর তাদের এইসব ক্যাম্পে পাঠানো যাবে। মামলাগুলি আর সাধারণ আদালতের আওতায় থাকবে না, বিশেষ ট্রাইব্যুনালেই শুনানি হবে। দায়িত্ব পড়েছে জেলা প্রশাসকদের উপর।এই প্রেক্ষাপটে সমান্তরালভাবে সামনে এসেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর নতুন বিজ্ঞপ্তি। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান(Pakistan), আফগানিস্তান(Afghanistan) ও বাংলাদেশ(Bangladesh)থেকে ধর্মীয় কারণে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব(Citizenship) পাওয়ার সুযোগ ছিল। এবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে কার্যত আরও দশ বছর যুক্ত হল আবেদনের ক্ষেত্রে।

তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করে বলেছে, এসআইআর(SIR )-সহ একাধিক ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই এই ঘোষণা। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)অভিযোগ করেন, বাংলার মানুষকে অপমান করা হলে কেন্দ্র চুপ থাকে, অথচ এনআরসি(NRC)-সিএএ(CAA)-ডিটেনশন ক্যাম্প(Detention Camp) নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে চলেছে।রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বাইরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সঞ্চার হয়েছে। কারণ এতদিন ডিটেনশন ক্যাম্প(Detention Camp) মানেই ছিল অসমের বিশেষ প্রেক্ষাপট। এখন দেশজুড়ে একই ব্যবস্থা চালু হলে বহু মানুষ নথিপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগবেন বলে আশঙ্কা করছেন।

পাশাপাশি, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে চলা অভিযানের সময় ধৃতদের নিয়ে আইনি জটিলতাও বাড়বে। নতুন আইন কার্যকর হলে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় চাপ তৈরি হতে পারে। নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে তর্ক-বিতর্ক যতই বাড়ুক, এই সিদ্ধান্ত যে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া অবস্থানকে স্পষ্ট করছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।