নিউজ পোল ব্যুরো: বাংলা ভাষা (Bengali language) পৃথিবীর অন্যতম মধুর ভাষা (sweet language) হিসেবে স্বীকৃত। আজকের দিনে এটি ভারতের ২৩টি সরকারিভাবে স্বীকৃত ভাষার (recognized languages) মধ্যে এক বিশেষ মর্যাদা ধরে রেখেছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি মানুষের মুখের ভাষা বাংলা, যা শুধু বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। বাংলায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা তিনটি দেশের জাতীয় সংগীত (national anthem) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে— যা নিঃসন্দেহে বাংলার জন্য এক অসামান্য গৌরবের বিষয়।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন (Language Movement) বাংলার ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। পাকিস্তান সরকার যখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা (state language) করার উদ্যোগ নেয়, তখন অসংখ্য তরুণ জীবন উৎসর্গ করেন।
শহীদ সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার প্রমুখের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা তার সম্মান অর্জন করে। সেই ত্যাগের স্বীকৃতি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (World Mother Language Day) পালনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রতিফলিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি আজ শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র বিশ্বের কাছে ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদার প্রতীক।বাংলা ভাষার (Bengali literature) ইতিহাস সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময়। মধ্যযুগের চণ্ডীদাস ও কৃত্তিবাস, আধুনিক যুগের বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল— এঁদের কলমে বাংলা ভাষা এক অনন্য রূপে বিকশিত হয়েছে।
সাহিত্যের পাশাপাশি গান, নাটক, সিনেমা, শিল্পকলা— সর্বত্র বাংলা তার ছাপ রেখে চলেছে। আজকের দিনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম (digital platform) বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অনলাইন বই, ব্লগ, অডিওবুক এবং ইউটিউবের মতো মাধ্যম বাংলা ভাষাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিচ্ছে।তবে এর পাশাপাশি বাংলা ভাষা নানা চ্যালেঞ্জের (challenges) মুখোমুখি হচ্ছে। আধুনিক প্রজন্মের মধ্যে ইংরেজির (English influence) প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে, ফলে প্রাচীন শব্দভান্ডার হারিয়ে যাচ্ছে। তাই বাংলা ভাষার সংরক্ষণ (language preservation) ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার, সমাজ এবং পরিবারকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। স্কুল-কলেজে বাংলা শিক্ষার মান উন্নত করা, বাংলা বই পাঠে উৎসাহ দেওয়া এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলা কনটেন্ট (digital content) তৈরির উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
বাংলা কেবল একটি ভাষা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি (culture), ঐতিহ্য (heritage) ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। আগামী প্রজন্মের হাতে এই ভাষাকে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই উদ্যোগগুলিই প্রমাণ করে, বাংলা ভাষা তার গৌরবময় আসন ধরে রেখে আরও উচ্চতায় পৌঁছবে। বাংলার গৌরব রক্ষা করাই হোক আমাদের সবার অঙ্গীকার।
