নিউজ পোল ব্যুরো:অনলাইন ইনভেস্টমেন্টের ফাঁদ পেতে লক্ষ লক্ষ টাকা (Bidhannagar cyber police fraud case) হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূল দুই পান্ডাকে গ্রেফতার করল বিধান নগর সাইবার পুলিশ। শনিবার রাতে চেন্নাইয়ে অভিযান চালিয়ে ধৃতদের গ্রেফতার করে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তকে জেরা করে বড়সড় প্রতারণা চক্রের হদিশ পেতে চাইছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/07/27/kodinhi-twin-village-kerala/
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধান নগরের বাসিন্দা এক মহিলা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সাইবার থানায় (Bidhannagar cyber police fraud case) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ইউটিউবে একটি অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে সেখানে উল্লেখ থাকা একটি মোবাইল নম্বরে ফোন করেছিলেন তিনি। ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে একটি সংস্থার প্রতিনিধি বলে দাবি করে এবং দ্রুত লাভের আশ্বাস দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপে বিনিয়োগ করতে বলেন।
প্রথমদিকে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে সমস্যার শুরু। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অ্যাপে তার বিনিয়োগের অঙ্ক দেখালেও, টাকা তোলার সময় একাধিক সমস্যায় পড়েন মহিলা। ফোনে যোগাযোগ করলে প্রতারকেরা বলেন, টাকা তুলতে হলে তাকে আরও কিছু অর্থ জমা করতে হবে, যা ‘প্রসেসিং ফি’, ‘ট্যাক্স’, বা অন্য কোনো অজুহাত হিসেবে দেখানো হয়।
প্রথমে সন্দেহ না করেই ধাপে ধাপে টাকা পাঠাতে থাকেন তিনি। একসময়ে তার পাঠানো মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এরপরও যখন তিনি টাকা তুলতে ব্যর্থ হন এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখনই বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
ঘটনার তদন্তে নেমে বিধান নগর সাইবার থানার পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতারণার উৎস সন্ধানে নামে। সেই সূত্র ধরেই চেন্নাইয়ে পৌঁছায় তদন্তকারী দল। অবশেষে শনিবার রাতে সফল অভিযান চালিয়ে চক্রের দুই মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় প্রতারণার মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তাদের অবস্থান কোথায়, তারা কীভাবে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে—তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি আন্তঃরাজ্য প্রতারণা চক্র, যার শিকড় বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ইনভেস্টমেন্ট ফাঁদ এখন ইন্টারনেটে অত্যন্ত সাধারণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষকে দ্রুত লাভের লোভ দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জনের পরই শুরু হয় প্রতারণা। তাই পুলিশও সাধারণ নাগরিকদের অনুরোধ করেছে, যেকোনো অনলাইন বিনিয়োগ করার আগে যথাযথ যাচাই না করে যেন কেউ ব্যক্তিগত তথ্য বা টাকা শেয়ার না করেন।
