নিউজ পোল ব্যুরো:আসানসোলে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ বিতর্কে উত্তাপ তুঙ্গে। লোকসভা নির্বাচনের মুখে তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাকে (Shatrughan Sinha) ঘিরে এই নতুন বিতর্ক রীতিমতো সরগরম করে তুলেছে শিল্পাঞ্চলকে। জামুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিং-এর সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে গিয়ে নীল বাতি-যুক্ত গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে আসানসোলের সাংসদের বিরুদ্ধে। বিরোধীদের দাবি, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় একজন জনপ্রতিনিধি এভাবে নীল বাতি ব্যবহার করতে পারেন না, যা স্পষ্টতই নির্বাচনী নির্দেশিকার পরিপন্থী।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/03/22/assam-commando-camp-terror-attack-ulfa-i-tinsukia-injured/
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোল ও জামুড়িয়ার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের মতে, নীল বাতি সাধারণত নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বা সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জন্য নির্ধারিত। নির্বাচনী প্রচারের কাজে এর ব্যবহার সরাসরি বিধিভঙ্গের সামিল। এই ইস্যুতে জামুড়িয়ার বিজেপি প্রার্থী ডাক্তার বিজন মুখার্জি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, শাসক দল ক্ষমতার দম্ভে মত্ত হয়ে নির্বাচনী বিধির তোয়াক্কা করছে না। এই বিষয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার এবং যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন শত্রুঘ্ন সিনহা (Shatrughan Sinha) । বিরোধীদের এই অভিযোগকে কার্যত গুরুত্ব না দিয়ে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই চলাফেরা করছেন এবং প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুসরণ করেই তাঁর যাতায়াত হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং বিরোধীরা নির্বাচনী লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে ছোটখাটো বিষয়কে সামনে এনে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। ‘বিহারিবাবু’ সাফ জানিয়েছেন, “কাজের কথা বলুন, এই ধরনের বাতি নিয়ে অযথা বিতর্কের কোনো প্রয়োজন নেই।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসানসোলের এই ঘটনাটি কেবল একটি প্রশাসনিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা সরাসরি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভোটের আগে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই যখন একে অপরকে আক্রমণের সুযোগ খুঁজছে, তখন এই ধরনের ইস্যু প্রচারের ময়দানে বাড়তি মাত্রা যোগ করছে। তৃণমূল শিবির এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করলেও, বিজেপি একে প্রশাসনিক শিথিলতা ও শাসকদলের প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
