নিউজপোল ব্যুরো: প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতিবাদী পড়ুয়াদের ওপর নারকীয় পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই এবার এক চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছাল। শরীরের রক্তজল করা অনশনের ২৫ দিনে দাঁড়িয়ে খোদ কেন্দ্রীয় দরবারে জোরালো হুঙ্কার ছুড়লেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংকে সরাসরি চিঠি লিখে কেন্দ্রকে তিনটি স্পষ্ট শর্ত দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই তিন দাবির লিখিত প্রতিশ্রুতি না মিললে কোনো অবস্থাতেই অনশন তোলার প্রশ্নই ওঠে না।
ওয়াংচুকের প্রথম দাবি, প্রশ্নফাঁসের যন্ত্রণায় যে সমস্ত পড়ুয়া আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা অর্থাৎ সংসদে এই জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে। এবং তৃতীয়ত, গোটা ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে।
হাসপাতালের বেড থেকে পাঠানো এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও বার্তায় নিজের সংকটজনক শারীরিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেছেন সোনম। ২৫ দিন ধরে একটানা অনশন করার ফলে তাঁর শরীরের ওজন একধাক্কায় ১১ কেজি কমে গিয়ে হাড়-জিরজিরে অবস্থা তৈরি হয়েছে। ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে পেশিও। সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও সোনমের স্পিরিট এতটুকু টলেনি।
প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “পুলিশি লাঠিচার্জ ও উসকানি সত্ত্বেও তোমরা যেভাবে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে গেছ, তা দেখে আমি আবেগপ্লুত। আক্রান্ত পড়ুয়াদের ওপর অত্যাচার দেখেই আমি এই কঠিন পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।” ছাত্রছাত্রীদের ওপর নতুন করে বলপ্রয়োগ না করা এবং কোনো ভুয়ো এফআইআর দায়ের করে যেন পুলিশি হেনস্থা না চালানো হয়—তারও কড়া আশ্বাস চেয়েছেন তিনি। আশ্বাস এলে তবেই অনশন কাটবে, নইলে এই মরণপণ লড়াই রাজপথে জারি থাকবে
