নিউজপোল ব্যুরো: একদিকে ‘জোড়াফুল’ বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে দলের নাম ও প্রতীকের দাবিতে পাল্টা চাপ! আজ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের টেবিলে মুখোমুখি হতে চলেছে তৃণমূলের দুই শিবির। সকাল ১১টায় ঋতব্রতপন্থী শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং ঠিক এক ঘণ্টা পরে দুপুর ১২টায় কালীঘাটপন্থী শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন। দুই পক্ষই নিজেদের দাবি ও শক্তির পক্ষে নথি-তথ্য তুলে ধরবে বলে খবর।
তৃণমূলের নাম, দলীয় প্রতীক এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি বিষয় ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় টানাপোড়েন। দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে বৈধ বলে দাবি করছে। সেই দাবি যাচাই করতেই এবার সরাসরি দুই শিবিরের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলছে নির্বাচন কমিশন। দুই পক্ষকেই পাঁচজন করে প্রতিনিধি পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কমিশনের কাছে দুই শিবির নিজেদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, বিধানসভায় তাদের সমর্থন বেশি এবং সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের অধিকার তাদের পাওয়া উচিত। পাল্টা কালীঘাট শিবিরও নিজেদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে কমিশনের কাছে যুক্তি দিয়েছে। ফলে আজকের বৈঠককে শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল।
আর এখানেই ঢুকে পড়েছে আরও বড় চাপ। সামনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। অর্থাৎ হাতে সময় কার্যত অল্প। তার আগেই যদি দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশন কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়, তাহলে দুই শিবিরের নির্বাচনী প্রস্তুতিতেই তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কমিশন কি দ্রুত কোনও পক্ষকে প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেবে? নাকি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতীক আটকে রাখার মতো কোনও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? অতীতে দলীয় প্রতীক নিয়ে বড় রাজনৈতিক বিবাদে কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠতা, বিধায়ক-সাংসদদের সমর্থন এবং সাংগঠনিক শক্তির মতো একাধিক বিষয় বিবেচনা করেছে।
