বিকট শব্দ, তারপরই ভয়াবহ CRASH! জগৎপুর থেকে যাত্রাগাছির পথে খালে উল্টে গেল গাড়ি, জীবিত উদ্ধার স্বামী-স্ত্রী ও শিশু

breakingnews অফবিট কলকাতা শহর

নিউজপোল ব্যুরো: বিকট একটা শব্দ! তারপর চোখের সামনে রাস্তা ছেড়ে সোজা বাগজোলা খালের দিকে ছিটকে গেল গাড়ি! মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি, আতঙ্কে ছুটে এলেন স্থানীয়রা। গাড়ির ভিতরে তখন আটকে এক মহিলা, এক পুরুষ ও একটি শিশু। দেরি না করে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারাই। শেষ পর্যন্ত তিনজনকেই জীবিত অবস্থায় গাড়ি থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে জগৎপুর থেকে যাত্রাগাছির দিকে যাওয়ার পথে, যাত্রাগাছি স্কুলের কাছাকাছি এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িটি জগৎপুরের দিক থেকে যাত্রাগাছির দিকে যাচ্ছিল। আচমকাই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে থাকা ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। এরপর আর নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি গাড়িটিকে। ধাক্কার পর সেটি রাস্তার পাশের বাগজোলা খালের দিকে চলে গিয়ে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। গাড়ির ভিতরে মানুষ আটকে থাকার বিষয়টি বুঝতে পেরেই শুরু হয় তৎপরতা। স্থানীয়দের চেষ্টায় এক পুরুষ, এক মহিলা এবং একটি শিশুকে গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তান হতে পারেন।

সবচেয়ে স্বস্তির খবর, দুর্ঘটনাটি ভয়াবহ হলেও গাড়িতে থাকা তিনজনের বড় ধরনের চোট লাগেনি বলেই প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। তবে কীভাবে আচমকা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারাল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ডিভাইডারে ধাক্কা লাগার পর চালকের নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণে এই দুর্ঘটনা—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। এই দুর্ঘটনা ফের সামনে এনে দিল রাস্তায় নিরাপত্তার প্রশ্ন। গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকের সতর্কতা এবং রাস্তার পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা নিয়ে বারবার সচেতনতার বার্তা দেওয়া হলেও দুর্ঘটনা পুরোপুরি আটকানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে কোনও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারালে রাস্তার পাশে খাল বা জলাশয় থাকলে বিপদ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

গত সপ্তাহের রাখী পূর্ণিমাতেও বারুইপুরে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এক বোনের শেষবার ভাইয়ের হাতে রাখি পরানোর হৃদয়বিদারক ছবি সামনে এসেছিল। ফলে জগৎপুর-যাত্রাগাছির এই দুর্ঘটনায় বড় ক্ষতি না হওয়ায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। তবে একটি বিকট শব্দ কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল, সেই আতঙ্ক এখনও কাটেনি স্থানীয়দের।