‘জোড়াফুল’ কি এবার FREEZE! কমিশনের বড় পদক্ষেপের জল্পনা—মমতা বনাম ঋতব্রত, উপনির্বাচনে কি আলাদা নাম-প্রতীক নিয়ে মুখোমুখি দুই ‘তৃণমূল’?

breakingnews জেলা রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: একই নাম, একই প্রতীক—কিন্তু দাবি দু’পক্ষের! নির্বাচন কমিশনের দরবারে তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ নিয়ে এবার শুরু হয়েছে আসল শক্তির পরীক্ষা। শনিবার দিল্লিতে প্রথমে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ এবং পরে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সঙ্গে বৈঠকে বসে কমিশন। দুই শিবিরের কাছেই জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁদের পাশে কতজন বিধায়ক এবং সাংসদ রয়েছেন। আর এই প্রশ্ন ঘিরেই আরও চড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি এখন কমিশনের সামনে। এক শিবির চাইছে, জোড়াফুল এবং তৃণমূলের পরিচয় তাদের হাতেই থাকুক।

শনিবারের বৈঠকে সংখ্যার হিসেব যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা কমিশনের প্রশ্নেই স্পষ্ট। কোন শিবিরের সঙ্গে কতজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, সেই তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এই প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা মামলার কথাও ঘুরছে। সেখানেও দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের সময় বিধায়ক ও সাংসদদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।ঋতব্রত তৃণমূল’-এর তরফে বৈঠকে শিবসেনা মামলার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিদের সমর্থনই দলের প্রকৃত শক্তির অন্যতম মাপকাঠি। ফলে কার পিছনে কতজন বিধায়ক ও সাংসদ রয়েছেন, সেই অঙ্কেই এবার নজর কমিশনের।

অন্যদিকে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর তরফে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রতিষ্ঠা এবং প্রতীকের ইতিহাস তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে জোড়াফুল এঁকেছিলেন এবং সেখান থেকেই দলের প্রতীকের ভাবনা তৈরি হয়। মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন—এই দাবিও কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। এমনকি বর্তমান বিরোধী শিবিরের নেতারাও কয়েক মাস আগে ওই প্রতীকেই নির্বাচনে জিতেছেন বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।

তবে সময়টাই এখন সবচেয়ে বড় FACTOR। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করলে দুই পক্ষের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে কমিশন আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কমিশন সূত্রে জল্পনা, চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক FREEZE করে রাখা হতে পারে। সেক্ষেত্রে উপনির্বাচনে দুই শিবিরকেই অস্থায়ী নাম এবং আলাদা প্রতীক দেওয়া হতে পারে।

অর্থাৎ, ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে ভোটের মাঠে একই দলের দাবিদার দুই পক্ষকে একেবারে আলাদা পরিচয়ে দেখা যেতে পারে। জোড়াফুল আপাতত কারও হাতে নয়, ‘FREEZE’—আর নতুন প্রতীকে দুই তৃণমূল! কমিশনের পরবর্তী নির্দেশেই এখন নির্ভর করছে গোটা রাজনৈতিক ছবির পরের অধ্যায়।