ডলারের দাপট কমানোর ডাক রাশিয়া-চিনের, পাশে কি থাকবে ভারত? ব্রিকসের মঞ্চে মোদীর ‘ধুরন্ধর’ চাল—পুতিন-পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মিলল বড় বার্তা!

breakingnews আন্তর্জাতিক দেশ ব্যবসা-বাণিজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: একদিকে ডলার ছাড়ার জন্য রাশিয়া-চিনের চাপ, অন্যদিকে আমেরিকার কড়া নজর—এই দুইয়ের মাঝেই ব্রিকসের মঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক চাল ঘিরে বাড়ছে জল্পনা! আগের একাধিক ব্রিকস বৈঠকে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ডলারের ব্যবহার কমানোর দাবি উঠেছে। রাশিয়া ও চিন বারবার এই বিষয়ে সওয়াল করেছে। ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট লুলাও প্রকাশ্যে ডলার নির্ভরতা কমানোর আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—ভারত কি এবার সত্যিই ডলার-বিরোধী পথে হাঁটবে?

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারত মার্কিন ডলারের আধিপত্য নিয়ে যে পুরোপুরি স্বস্তিতে রয়েছে, তা নয়। কিন্তু একই সঙ্গে রাতারাতি ডলার ছেড়ে দেওয়ার অবস্থাতেও নেই নয়াদিল্লি। ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের বড় অংশ এখনও ডলার নির্ভর। ফলে ব্রিকসের অন্য সদস্যদের মতো সরাসরি ডলার বর্জনের পথে যাওয়ার বদলে ভারত বিকল্প কোনও পেমেন্ট ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল কারেন্সির মাধ্যমে দেশগুলির মধ্যে লেনদেন আরও সহজ করার ভাবনা সামনে আসতে পারে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রাকে সংযুক্ত করে বাণিজ্য ও পর্যটনের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত করার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। অর্থাৎ সরাসরি ডলারকে আক্রমণ নয়, বরং বিকল্প পরিকাঠামো তৈরির দিকেই ভারতের নজর থাকতে পারে।

এর পিছনে রয়েছে ভারতের নিজস্ব বাণিজ্যিক বাস্তবতা। ব্রিকসের দেশগুলির সঙ্গে ভারতের আমদানি অনেক দ্রুত বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধির গতি কম। ফলে ডলার বাদ দেওয়ার আগে ব্রিকস দেশগুলির বাজারে ভারতের রপ্তানি বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু আমদানি করে গেলে লেনদেনের ভারসাম্য ভারতের পক্ষে থাকবে না। তাই ব্রিকসের চেয়ারম্যান হিসেবে ভারতের বড় লক্ষ্য হতে পারে—বাণিজ্য বাড়ানো, রপ্তানি বাড়ানো এবং সহজ ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট ব্যবস্থা তৈরি করা। এর মধ্যেই শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদী।

একই দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোদী। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। আমেরিকার আপত্তি সত্ত্বেও রাশিয়া ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ভারতের এই ধারাবাহিক যোগাযোগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে ব্রিকসের মঞ্চে পুতিন জি-৭-এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ডলার, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির তিনটি ক্ষেত্রেই ভারতকে একসঙ্গে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে। তাই ব্রিকসের মঞ্চে ভারতের আসল ‘চাল’ ডলার ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং নিজের স্বার্থ বজায় রেখে বিকল্প বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।