নিউজ পোল ব্যুরো: আজ মহালয়া (Mahalaya)। পিতৃপক্ষের অবসানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে শুরু হল দেবীপক্ষ। সকাল হতেই গঙ্গার ঘাটে-ঘাটে (Ganga Ghat) ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে জল-অর্ঘ্য, তিল ও অন্ন নিবেদন করে চলছে তর্পণ (Tarpan)। কলকাতার (Durga Puja 2025) বাবুঘাট, বাগবাজার, শোভাবাজার, নিমতলা—সব ঘাটই সকাল থেকেই ভরে উঠেছে এই বিশেষ আয়োজনে।

তবে শুধু মহানগর নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও একই ছবি। দিঘা, বীরভূমের তিলপাড়া জলাধার, বাঁকুড়ার সতীঘাট—সব জায়গাতেই ভোর থেকেই সাধারণ মানুষ পূর্বপুরুষের উদ্দেশে তর্পণে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে হাওড়ার চাঁদমারি ঘাটে চোখে পড়ার মতো ভিড় ছিল। বহু পরিবার একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।নিরাপত্তার দিক থেকেও রাখা হয়েছে কড়া নজর। Kolkata Police ও জেলা পুলিশ প্রশাসন আগে থেকেই প্রস্তুত। ভিড় সামলাতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ফোর্স (Extra Force)। গঙ্গার জলপথে (River Traffic) চলছে রিভার ট্রাফিক পুলিশের টহল, সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলা দল (Disaster Management Team)ও সতর্ক রয়েছে। ফলে মানুষ নির্বিঘ্নে তর্পণে অংশ নিতে পারছেন।
আরও পড়ুন:Raghu Dakat: নায়িকাদের সঙ্গে এক মঞ্চে ‘রঘু ডাকাত’-এর নায়ক
এই দিনেই আম-বাঙালি মনে মনে শুরু করে দেন দুর্গা আগমনের ক্ষণগণনা। দেবীপক্ষের সূচনাতেই আসে এক অনন্য আবেগ, যা জড়িয়ে আছে দুর্গাপুজো-র সঙ্গে। তাই পিতৃপক্ষের অবসান এবং তর্পণের আচার শেষ হলেই মানুষ উৎসবমুখর হয়ে ওঠেন। এদিকে, মহালয়ার একদিন আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুজো উদ্বোধনের ধারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার উদ্বোধন করেছেন বেশ কয়েকটি বড় মণ্ডপ। শ্রীভূমি, টালা প্রত্যয়, হাতিবাগান সর্বজনীনের মতো প্রতীক্ষিত দুর্গোৎসবের (Durga Puja Pandal) উদ্বোধনে তিনি উপস্থিত ছিলেন। প্রথম সূচনা হয় ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের হাতিবাগান সর্বজনীন থেকে।

তবে মহালয়ার আগেই পুজো উদ্বোধন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন—“আমি শুধু প্যান্ডেল উদ্বোধন (Pandal Inauguration) করি, মাতৃমূর্তি স্পর্শ করি না তর্পণের আগে।” এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে ধর্মীয় আচার পালনে কোনও বিরতি ঘটছে না, বরং উৎসবের আবহকে আগেভাগেই সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সব মিলিয়ে, আজকের দিনটা শুধু তর্পণের নয়, বরং উৎসবের দিগন্ত উন্মোচনেরও দিন। একদিকে ঘাটে শ্রদ্ধার তর্পণ, অন্যদিকে শহরজুড়ে পুজো উদ্বোধনের সাড়া—এইভাবেই মহালয়ার সকালের সঙ্গে মিলেমিশে যায় বাঙালির শ্রদ্ধা ও উৎসবের আবেগ।
