নিউজ পোল ব্যুরো: মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভুল। একটিমাত্র নির্দেশিকা মানলেই হয়তো রক্ষা পেতে পারত শতাধিক তাজা প্রাণ। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে চরম মূল্য দিল ভারতীয় বিমান পরিবহন সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া (Air India)। আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার (Ahmedabad Plane Crash) প্রাথমিক তদন্তে এমনই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করল এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)।
শনিবার রাতে প্রকাশিত ১৫ পাতার সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমান ওড়ার ঠিক পরপরই আচমকা দু’টি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। FAA (Federal Aviation Administration)-এর ২০১৮ সালের একটি নির্দেশিকায় (SAIB) স্পষ্ট করে জানানো হয়েছিল, ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ লক হয়ে গেলে কী ধরনের বিপর্যয় (Ahmedabad Plane Crash) ঘটতে পারে। কিন্তু সেই সতর্কতা ‘গাইডলাইন’ (Guideline) বলে উপেক্ষা করে রক্ষণাবেক্ষণের কোনও ব্যবস্থা নেয়নি এয়ার ইন্ডিয়া (Air India)। ফলাফল? মরণফাঁদে আটকে পড়ল গোটা বিমান।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার (Ahmedabad Plane Crash) কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ফুয়েল সুইচ হঠাৎ RUN থেকে CUTOFF-এ চলে যাওয়া। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তা আবার ON হলেও, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফ্লাইটের সময় বিমানের ওজন, ফ্ল্যাপ, গতি—সবই ছিল স্বাভাবিক। তাহলে দোষ কার? তদন্ত বলছে, মূল সমস্যা ছিল Throttle Control Module এবং সংশ্লিষ্ট ফুয়েল কন্ট্রোল প্যানেল-এ। যদিও এই থ্রটল মডিউল ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বদলানো হয়েছিল, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফুয়েল সুইচের প্যানেল অপরিবর্তিতই থেকে গিয়েছিল।
একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসরণ না করার খেসারত যে এত বড় হতে পারে, তা বোধহয় কেউই ভাবেনি। আর তাই প্রশ্ন উঠছে এতগুলো প্রাণের দায় কে নেবে? বিমান চালনার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এমন গাফিলতি কেবল ‘মানবিক ভুল’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কি আদৌ উচিত?
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
