নিউজ পোল ব্যুরো: ২০১৮ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) একটি সতর্কবার্তা (Alert) জারি করেছিল, কিছু বোয়িং ৭৩৭ বিমানে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচের লকিং সিস্টেম ত্রুটিপূর্ণভাবে ইনস্টল করা হয়েছে। কিন্তু সেটি ছিল কেবল একটি পরামর্শমূলক নোটিস, কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়। আর সেই ‘অ-গুরুত্বপূর্ণ’ মনে করা সমস্যাই আজ ২৬০ জনের জীবন কেড়ে নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১২ জুন, এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India Crash) ফ্লাইট AI 171 আহমেদাবাদ (Ahmedabad) থেকে লন্ডনের (London) পথে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয় গুজরাটের (Gujarat) একটি মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে। ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে বেঁচে ছিলেন মাত্র একজন। মাটিতে মৃত্যু হয় আরও ১৯ জনের।
তদন্তে উঠে এসেছে, বোয়িং ৭৮৭-৮ (Boeing 787) মডেলের এই বিমানে (Air India Crash) ব্যবহৃত জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ ছিল সেই একই ডিজাইনের, যেগুলি নিয়ে FAA সাত বছর আগে প্রশ্ন তুলেছিল। বিমানের উড্ডয়নের মাত্র তিন সেকেন্ডের মাথায় সুইচগুলি “RUN” থেকে “CUTOFF” হয়ে যায় অর্থাৎ ইঞ্জিনে জ্বালানির প্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এটি কি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, না কি মানবিক ভুল?
ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে এক পাইলটকে অপরজনকে জিজ্ঞেস করতে শোনা যায়, “তুমি কেন জ্বালানি বন্ধ করলে?” উত্তরে বলা হয়, “আমি করিনি।” কম্যান্ডিং পাইলট সুমিত সাভারওয়ালের ছিল ১৫,৬০০ ঘন্টারও বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা। সহ-পাইলট ক্লাইভ কুন্ডারও ছিলেন দক্ষ। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ভুলটা হতে পারে বিমানের (Air India Crash) সিস্টেমেই।
প্রাক্তন AAIB সদস্য ক্যাপ্টেন কিশোর চিন্তা বলেন, “যদি সুইচ গুলো পাইলট ছাড়াই ইলেকট্রনিক কন্ট্রোলে ট্রিপ হয়, তবে এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।” এখন প্রশ্ন একটাই! সাত বছর আগের সতর্কতা যদি গুরুত্ব পেত, তবে কি এত প্রাণ যেত না?সম্পূর্ণ তদন্ত এখনও চলছে, কিন্তু এই দুর্ঘটনা বোয়িং-এর সুইচ ডিজাইন ও নিরাপত্তা প্রটোকলের বড় প্রশ্ন তুলে দিল। এবার কি FAA শুধুই ‘পরামর্শ’ নয়, আইনত পদক্ষেপ নেবে?
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
