নিউজ পোল ব্যুরো: কসবার ল-কলেজের পর IIM জোকার (IIM Joka) ক্যাম্পাসে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল হয়েছে রাজ্য। নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার উঠেছে প্রশ্ন। সেই সঙ্গেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এহেন ঘৃণ্য কাজ কি করে ঘটতে পারে তা নিয়ে যখন জোর কদমে চর্চা চলছে তখনই নির্যাতিতার বাবার দাবি ঝড় তুলেছে। মনোবিদ তরুণী যিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন তাঁর বাবাই বলছেন মেয়ের সঙ্গে কিছুই হয়নি। দাবি করলেন তাঁর মেয়ের সঙ্গে কোনও অত্যাচার হয়নি। সংবাদ মাধ্যমের সামনে নির্যাতিতার বাবার দাবির পরেই প্রশ্ন উঠছে কিছুই যখন হয়নি তাহলে এত বড় অভিযোগ সামনে এল কি করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারী তরুণী ওই কলেজের ছাত্রী নন। অভিযুক্ত ছাত্র ক্যাম্পাসিং-এর অজুহাতে তরুণীকে কলেজে আমন্ত্রণ জানায় এবং পরে তাঁকে বয়েজ হস্টেলে নিয়ে যায়। তরুণীর দাবি, তাঁকে জল ও পিৎজা (Pizza) খাওয়ানো হয়, এরপর তিনি শারীরিকভাবে দুর্বলতা অনুভব করেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত ছাত্র তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। সেই দাবিই নির্যাতিতার বাবা অস্বীকার করেছেন। মেয়ের সঙ্গে কি হয়েছে এবং মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, “হ্যাঁ কথা বলেছি। ও বলেছে, না আমাকে কেউ অত্যাচারও করেনি, খারাপ ব্যবহারও করেনি।” কি কি কথা হয়েছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “না, মেয়ের সঙ্গে পরিষ্কার ভাবে কথাটা এখনও বলতে পারিনি। সারারাত ঘুমায়নি, ও এখন ঘুমাচ্ছে। উঠলে কথা বলব পুরোপুরি।” কিছুই যখন হয়নি তাহলে মেয়ে কেন ছাত্রী না হওয়া সত্বেও IIM জোকার ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “মেয়ে যেখানে স্টাডি করে, কী একটা কাগজ জমা দিতে গিয়েছিল।” বাবা বলেন, “রাত ৯.৩৪-এ মেয়ে ফোন করেছিল গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে যায়। লোকেশনটা ও বুঝতে পারেনি। আমি খুঁজতে গিয়েছিলাম। রেসকিউ করতে। ওখানে ছিল না। খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারলাম পিজিতে আছে। লোকেশন দেখাচ্ছে শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিট। নিউরোলজি ডিপার্টমেন্ট ওখানে যাই। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি হরিদেবপুর থানার পুলিশ ওকে রেসকিউ করে রেখে দিয়েছে। ওখানে যাই। পুলিশকে বলি। ওরা একটা অভিযোগের কথা বলেছে। মেয়ের সঙ্গে কথা বলে জানলাম এরকম কোনও ঘটনা বলছে ঘটেনি।”
আরও পড়ুন : Joka: জোকার ম্যানেজমেন্ট কলেজের হস্টেলে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন!
IIM জোকার (IIM Joka) ক্যাম্পাসের ঘটনার পর মেয়ে কি ভেঙে পড়েছে এই প্রশ্নও ধেয়ে আসে। তারই জবাবে বলেছেন, “না, না ও স্ট্রং।” এমনকি তিনি এটাও বলেছেন “ও তো বলছে, সব আমাকে দিয়ে লেখানো হয়েছে। ও পুরোপুরি ফিট।” অর্থাৎ মেয়েকে দিয়ে নাকি মিথ্যা অভিযোগ লেখানো হয়েছে এমনটাই দাবি করেছেন নির্যাতিতার বাবা। ঘটনার পর তরুণী হরিদেবপুর (Haridevpur) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ছাত্রকে গ্রেফতার করে এবং ক্যাম্পাসে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। ক্যাম্পাসের (Joka) সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। একজনকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “আমি আর জানি না অত।” তাহলে বর্তমানে কি চাইছেন তাঁরা এই প্রশ্ন করা হলে জবাবে বলেছেন, “আমরা আর কী চাইব। আমার মেয়েকে ফিরে পেয়েছি। আমার মেয়ে নর্মাল।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
