Kids Health: সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদে বিপন্ন, শিশুদের স্বাস্থ্য

breakingnews Uncategorized অফবিট স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ডিজিটাল জীবনের দাপটে আজকের প্রজন্ম ছোট থেকে বড় সবাই স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ কিংবা টেলিভিশনের সঙ্গে অভ্যস্ত। পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস থেকে শুরু করে বিনোদন, গেমস কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া সব কিছুতেই স্ক্রিন এখন অপরিহার্য। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা অভিভাবকদের জন্য নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণাটি জানাচ্ছে, শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম তাদের হৃদ্‌যন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা যত বেশি সময় অবসর কাটায় মোবাইল বা টিভির সামনে বসে, ততই বাড়ে ‘কার্ডিওমেটাবলিক’ ঝুঁকি। এর মধ্যে রয়েছে স্থূলতা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, কোলেস্টেরল অস্বাভাবিকতা এবং ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা।

আরও পড়ুন :Shustho Chandannagar: স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রযুক্তির নয়া দিশা ‘সুস্থ চন্দননগর

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো—যেসব শিশু পর্যাপ্ত ঘুম পায় না, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস এবং শারীরিক নড়াচড়া কমে যাওয়া এই সমস্যার অন্যতম বড় কারণ। ফলে শিশুরা বাইরের খেলাধুলা ও সক্রিয় জীবন থেকে বঞ্চিত হয়, যা শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও খারাপ প্রভাব ফেলে।

শিশুকে সুরক্ষিত রাখার উপায়:-

1. স্ক্রিন টাইমে সীমাবদ্ধতা আনুন– গবেষকরা বলছেন, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের দৈনিক অবসর স্ক্রিন টাইম যেন ২ ঘণ্টার বেশি না হয়।

2. ঘুমের সঠিক রুটিন নিশ্চিত করুন– ছোটদের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৯–১১ ঘণ্টা এবং কিশোরদের জন্য ৮–১০ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন।

3. শারীরিক কার্যকলাপে উৎসাহ দিন – প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা শিশুদের বাইরে খেলা, দৌড়ঝাঁপ বা ব্যায়ামে যুক্ত রাখা উচিত।

4. পরিবারের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটান– মোবাইল বা টেলিভিশনের বদলে পরিবারের সবাই মিলে বই পড়া, গল্প বলা বা বোর্ড গেম খেলার মতো অভ্যাস গড়ে তুলুন।

5. অভিভাবকের ভূমিকা – বাবা-মা নিজেরাই যদি স্ক্রিন ব্যবহারে সংযমী হন, তাহলে শিশুরাও সহজে সেই অভ্যাস রপ্ত করবে।

ডিজিটাল ডিভাইস পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। শিশুদের স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়তে স্ক্রিন টাইমের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক সক্রিয়তার মধ্যে ভারসাম্য আনা অভিভাবকদের দায়িত্ব। সচেতন পদক্ষেপ নিলে আজকের শিশু আগামী দিনে সুস্থ ও শক্তিশালী প্রজন্ম হয়ে উঠতে পারবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole