শুভম দে: আই-লিগ চ্যাম্পিয়ন নিয়ে চলা বিতর্কে অবশেষে ইতি টেনে দিলো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (CAS)। কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (CAS) জানিয়ে দিল — ইন্টার কাশিই (Inter Kashi) ২০২৪-২৫ মরশুমের আই-লিগ চ্যাম্পিয়ন। ক্যাস -এর এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে আইএসএলে খেলার রাস্তা খুলে গেল ইন্টার কাশির কাছে।
আরও পড়ুন: Mohun Bagan vs East Bengal: ফের সূচী পরিবর্তন। আগামীকাল হচ্ছে কলকাতা লিগের ডার্বি?
চলতি বছর আই-লিগ শেষ হওয়ার পর থেকেই চ্যাম্পিয়ন দল নিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। একাধিক নিয়মভঙ্গ এবং ম্যাচ রেজাল্ট নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল বিভিন্ন পক্ষ থেকে। তবে ক্যাস -এর দীর্ঘ শুনানির পর তাদের চূড়ান্ত রায়ে জানানো হয়েছে, প্রতিযোগিতার নিয়ম মেনে সব শর্ত পূরণ করে ইন্টার কাশিই (Inter Kashi) শীর্ষ স্থানে পৌঁছেছে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে তারা।
ঘটনার সূত্রপাত নামধারী এফসি -র একটি অভিযোগ থেকে। তারা দাবি করেছিল, ইন্টার কাশী (Inter Kashi) নাকি আই-লিগের ৬.৫.৬ এবং ৬.৫.৭ ধারা ভেঙে একবার বাদ দেওয়া মার্কো বারকোকে ফের খেলিয়েছে। আই-লিগের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ক্লাব ছ’জন বিদেশি পর্যন্ত নথিভুক্ত করতে পারবে। পাশাপাশি, একবার বাদ দেওয়া কোনও বিদেশি খেলোয়াড়কে সেই মরশুমে ফের আর সই করানো যাবে না। কিন্তু নামধারী অভিযোগ জানায়, নবম রাউন্ডে স্পেনের মার্কো বারকোর বদলে সার্বিয়ার মাতিজা বাবোভিচকে নেওয়ার পর কাশী আবার পরবর্তী রাউন্ডে বারকোকে ফিরিয়ে আনে। এই কাজ নিয়মবিরুদ্ধ — একযোগে এমনই অভিযোগ জানায় নামধারী, চার্চিল ব্রাদার্স ও রিয়াল কাশ্মীর, যাদের বিপক্ষেই বারকো খেলেছিলেন।

এই অভিযোগে ফেডারেশনের আপিল কমিটি ইন্টার কাশীর চার পয়েন্ট কেটে নেয়। বাড়তি পয়েন্ট পায় চার্চিল (২) ও নামধারী (৩)। তার ফলে চার্চিল ৪২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং কাশী নেমে আসে ৩৭ -এ।
গত ১৮ এপ্রিল চার্চিলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে এআইএফএফ। তার পরই ক্যাসে যায় কাশী। ২৭ এপ্রিল, ক্যাসের আপিল ডিভিশনের সহ-সভাপতি এলিজাবেথ স্টেনার নির্দেশ দেন যে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করা যাবে না। কিন্তু ফেডারেশন জানায়, তারা আগেই ট্রফি ও পদক দিয়ে দিয়েছে চার্চিলকে! পরে তারা চার্চিলের থেকে ট্রফি ফেরত চাইতে বাধ্য হয়।
প্রসঙ্গত চার্চিল লিগ শেষ করে ৪০ পয়েন্টে, কাশী ৩৯ -এ। এই ব্যবধান তৈরি হয় কাশীর একটি ম্যাচ ঘিরে। ১৩ জানুয়ারি নামধারীর বিরুদ্ধে ০-২ ব্যবধানে হারে কাশী। পরে তারা অভিযোগ করে, নামধারী ওই ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ক্লেডসন কার্ভালহো দা সিলভাকে খেলিয়েছে।
শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি প্রথমে নামধারীকে পরাজিত ঘোষণা করে কাশীকে তিন পয়েন্ট দিলেও, ২৭ মার্চ সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ কাশী আইনি হুমকি দিয়ে ফের ক্যাসে যায়। তারা দাবি করে আপিল কমিটির প্রক্রিয়া ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। শেষ পর্যন্ত ক্যাস জানিয়ে দেয়, কাশীই নিয়ম মেনে খেলে শীর্ষে পৌঁছেছে। ফেডারেশনের যুক্তি ধোপে টেকেনি। ফলে আই-লিগের আসল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উঠে আসলো ইন্টার কাশির নাম।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব চ্যানেলের লিংক: https://youtube.com/@thenewspole?si=Dj7oJ292ssfk1Syd
এই রায়ে স্বস্তির হাওয়া কাশী (Inter Kashi) শিবিরে। তবে এখন নজর এআইএফএফ-এর দিকে। এখনও তারা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, কাশীর আইএসএল খেলার সম্ভাবনা প্রবল। এখন শুধু অপেক্ষা, তারা আইএসএলে নিজেদের ছাপ রেখে যেতে পারে কি না। তবে অবশ্যই যদি আইএসএল হয়!
