নিউজ পোল ব্যুরো: আগামী বছরে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। ১৮ জুলাই দুর্গাপুর থেকে প্রধানমন্ত্রী আর সোমবার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রণনীতি ঠিক করে দিয়েছেন। নির্বাচনী সুর বেঁধে দেওয়ার পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্বাচনী মাস্টারস্ট্রোক। রাজ্যের আরও তৃণমূল ও প্রান্তিক স্তরে পৌঁছাতে নতুন সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২ অগস্ট থেকে নতুন প্রকল্প চালু করবে রাজ্য সরকার জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহল বলছে ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান ’-এর কথা ঘোষণা করেছেন। সেই সঙ্গেই জানিয়ে দিয়েছেন নতুন এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে কিভাবে। মুখ্যমন্ত্রী বললেন, মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ”ছোট ছোট কাজের জন্য আমাদের নতুন প্রকল্প – আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান। মানুষের প্রকল্প নিয়ে সরকার এবার পথে নামছে। এটা ছোট্ট প্রোগ্রাম। কিন্তু পরে বিস্তৃত হবে। সারা দেশে এধরনের উদ্যোগ এই প্রথম। মানুষ নিজেদের বুথ, নিজেদের গ্রামের সমস্যার সমাধান পাবে।” প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ”তিনটি করে বুথ নিয়ে একটা কেন্দ্র হবে। রাজ্যে মোট ৮০ হাজার বুথ আছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে সপ্তাহে একদিন করে ক্যাম্প হবে। আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হবে। কাজটা শেষ করতে ২ মাস সময় লাগবে। ক্যাম্পগুলিতে সারাদিন থাকবেন সরকারি অফিসাররা। বুথে মানুষজন এসে গ্রামের সমস্যার কথা জানাবেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে অফিসাররা ঠিক করবেন, কতটুকু কাজ করা যাবে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে, অনলাইন পোর্টালে কাজ হবে।”
নবান্ন থেকে মমতা (Mamata Banerjee) বললেন, ”পরিষেবা একেবারে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে হবে। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাবে সরকারি আধিকারিকদের। যেমন গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ স্তরে কাজ চলছে, সেরকম চলবে। এছাড়াও অনেক ছোটখাটো সমস্যা থাকে, যা এসব পরিষেবার মধ্যে পড়ে না। আপনার গ্রামের নির্দিষ্ট কোনও কাজ দরকার হলে, যেমন আইসিডিএস সেন্টারের পাঁচিল বা ছাদ অথবা ঘর তৈরি হবে। সেই কাজটা এই ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ প্রকল্পের মাধ্যমে হতে পারে। ছোট স্তরে কাজগুলো হবে।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এই প্রকল্পের জন্য ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক-একটা বুথের জন্য় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করব। মোট ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এটা ২ অগস্ট থেকে চালু হবে। রাজ্যস্তরে টাস্ক ফোর্স হবে। যারা এটা মনিটারিং করবে। সরকারের কাছে কাউকে পৌঁছতে হবে, সরকার দুয়ারে পৌঁছে যাবে।”
