নিউজ পোল ব্যুরো:মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কবৃদ্ধি ও বাণিজ্য হুমকির জবাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং রবিবার এক জনসভায় সরাসরি পাল্টা আক্রমণ শানালেন (Rajnath Singh response to Trump)। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “যে ‘সবকা বস’ সেজে বসে আছে, তারা ভারতের এই দ্রুত উত্থান হজম করতে পারছে না।”
রাজনাথের এই মন্তব্যে স্পষ্ট আক্রমণ ছিল ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের দিকে (Rajnath Singh response to Trump)। তিনি আরও বলেন, “কিছু শক্তি আছে যারা ভারতের সাফল্যে খুশি নয়। তারা ভাবছে তারা ‘সবকা বস’, অথচ ভারত এত দ্রুত এগোচ্ছে। তাই তারা চাইছে ভারতীয় পণ্যের উপর বেশি শুল্ক আরোপ করে আমাদের বিদেশি বাজার নষ্ট করে দিতে। কিন্তু আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই—ভারতকে বড় শক্তি হওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না।”
গত কিছু সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ভারতের ওপর আরও ২৫ শতাংশ জরিমানা চাপানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ মতো কঠোর পদক্ষেপ আসার সম্ভাবনাও উস্কে দিয়েছেন ট্রাম্প।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং অভিযোগ তুলেছেন যে ভারত রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধকে আর্থিক সাহায্য করছে। এমন পরিস্থিতিতেও রাজনাথ সিং আশাবাদী। তিনি বলেন, “আজ আমরা বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি করছি। এই সাফল্যই নতুন ভারতের শক্তি।”
মার্কিন শুল্কবৃদ্ধিকে ইতিমধ্যেই ভারত ‘অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে ভারতের যুক্তি হলো—বাজারের চাহিদা এবং দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রধান অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “কৃষক, জেলে ও দুগ্ধখাতের স্বার্থে ভারত কখনও আপস করবে না। আমেরিকার শুল্কের ধাক্কা আমরা সামলাতে পারব।”
উল্লেখযোগ্য, কৃষি ও দুগ্ধশিল্প নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বহুদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার তেল আমদানি এবং শুল্কবৃদ্ধির কারণে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—ভারতের সঙ্গে আর কোনও বাণিজ্য আলোচনা হবে না।
এই বিতর্কের মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত এবং কূটনৈতিক মোকাবেলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
