নিউজ পোল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক গণনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিরাট রাজনৈতিক ছবি। শুরু থেকেই ঝড়ের গতিতে এগোচ্ছে এনডিএ (NDA)। দেড়শোরও বেশি আসনে জোট এগোতে থাকায় কার্যত পিছিয়ে পড়েছে মহাগটবন্ধন (Mahagathbandhan)। সেই ট্রেন্ড থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোরালো জল্পনা— বিহারে ফের ক্ষমতায় ফিরছে এনডিএ-ই। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে বিজেপি(BJP) শিবির। এমন আবহেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং (Giriraj Singh) ফলাফল প্রায় স্পষ্ট হতেই বাংলা দখলের ডাক দিয়েছেন। তার দাবি, “বিহারের পর এবার পালা বাংলার।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ এবার সত্যকে চিনতে পারবেন।”
তবে তৃণমূল (TMC) এসব মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “বিহারের সমীকরণ আর বাংলার বাস্তব এক নয়। বাংলায় শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভরসা।” তার দাবি, উন্নয়ন, ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানুষের অধিকার— এই চার স্তম্ভেই বাংলা দাঁড়িয়ে আছে। তাই ২৫০-র বেশি আসন নিয়েই ফের ক্ষমতায় ফিরবেন মুখ্যমন্ত্রী।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এদিকে বঙ্গ বিজেপিও(BJP) নিজেদের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করছে। নেতা রাহুল সিনহা জানান, বিহারে বিজেপির সাফল্যের মূল কারণ উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং ভোটার লিস্ট শুদ্ধিকরণ। তার অভিযোগ, তৃণমূল বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। অন্যদিকে ফলাফল স্পষ্ট হতেই বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari) নীতীশ-মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্তব্য করেন, “বাংলায় চাকরি চোর আর নারী আক্রমণকারীদের হারাব।” তবে পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ভারতের বুকে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে একমাত্র নির্ভরযোগ্য মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের মতে, “ভোটচুরি আটকাতে যে সংগঠনিক কাঠামো দরকার, সেটি কংগ্রেসের নেই— তৃণমূলের আছে।”
বিহারের ভোট-পর্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিআইএম (এল)-ও। সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের দাবি, ভোটার তালিকা ও কমিশনের তথ্যের অমিল নিয়ে আরও তদন্ত হওয়া উচিত। মহাগটবন্ধনের ভরাডুবি নিয়ে কংগ্রেস নেতা কেতন জয়সওয়ালের বক্তব্য, “যদি এই ফলই চূড়ান্ত হয়, তাহলে পর্যালোচনা করা হবে। ভুয়ো ভোটার বাদ যাক, কিন্তু বৈধদের যেন বাদ না দেওয়া হয়।”
