নিউজ পোল ব্যুরো: দিল্লি ও এনসিআর এলাকা থেকে সমস্ত পথকুকুর (Stray Dog) সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি রায়ে এটাও বলা হয়েছে কোনও পশুপ্রেমীর আবেদন শোনা হবে না। এই রায় নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের এই আদেশের তীব্র নিন্দা করেছেন এবং এই রায়কে “কয়েক দশকের মানবিক নীতি থেকে পিছিয়ে” যাওয়ার ঘটনা বলেই উল্লেখ করেছেন। লোকসভার বিরোধীদলনেতা “কণ্ঠহীন আত্মাদের” পক্ষে সোচ্চার হয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপ “নিষ্ঠুর”, যা “মানুষের করুণা কেড়ে নেয়”।
পথকুকুরদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার রায় নিয়ে ক্ষুব্ধ রাহুল এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেছেন। লিখেছেন, “দিল্লি-এনসিআর থেকে সমস্ত পথভ্রষ্ট কুকুর অপসারণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কয়েক দশক ধরে চলে আসা মানবিক, বিজ্ঞান-সমর্থিত নীতি থেকে এক ধাপ পিছিয়ে। এই নির্বাক আত্মারা “সমস্যা” নয় যা সরিয়ে ফেলা হবে।” তিনি আরও লিখেছেন, “খোঁয়াড় তৈরি, নির্বীজকরণ, ভ্যাকসিন দেওয়া এবং সামাজিক সুরক্ষাই পথঘাটকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। আর সেটাও কোনও নৃশংসতা ছাড়াই হতে পারে। কিন্তু, একেবারে পথকুকুরকে সরিয়ে ফেলার পদক্ষেপ হিংস্র, অদূরদর্শী এবং করুণার অভাবকেই তুলে ধরে। আমরা জননিরাপত্তা ও প্রাণিকল্যাণের বিষয়টিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে পারি।” রাহুল গান্ধী আরও বলেন, “আমরা জননিরাপত্তা এবং প্রাণী কল্যাণ একসাথে নিশ্চিত করতে পারি।” তবে শুধু রাহুল গান্ধী নন একাধিক পশুপ্রেমী শীর্ষ আদালতের এই রায় একেবারেই মানতে পারছেন না। কংগ্রেস নেতা এবং তার পরিবার সারমেয়দের ভালোবাসার জন্য পরিচিত। ২০১৭ সালে একটি টুইটে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর রাগার পোষা সারমেয় ‘পিডি’ ইন্টারনেট সেনসেশন হয়ে ওঠে। গত বছর রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কুকুরের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল। ২০২৩ সালে রাহুল তার মা তথা প্রাক্তন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে ‘নুরি’ নামে একটি পোষা কুকুর উপহার দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, কুকুরের (Stray Dog) কামড়ের ক্রমবর্ধমান ঘটনা এবং জলাতঙ্কের মৃত্যুর কারণে রাজধানী এবং সংলগ্ন অঞ্চলের সমস্ত পথ কুকুরকে আবাসিক এলাকা থেকে দূরে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং আর মাধবনের বেঞ্চ সোমবার এই নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের মতে, কুকুরদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে এমন পেশাদার থাকতে হবে যারা কুকুরদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে, জীবাণুমুক্তকরণ এবং টিকাদান করতে পারে। এটাও দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কুকুরগুলি যেন বাইরে যেতে না পারে। আদালত আরও সতর্ক করে জানিয়েছে এই পদক্ষেপে বাধা দেওয়া হলে যে কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে “কঠোরতম ব্যবস্থা” নেওয়া হবে।
