নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতা শহর আবারও সাংস্কৃতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উর্দু অ্যাকাডেমির আয়োজিত এক আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল খ্যাতনামা গীতিকার ও কবি জাভেদ আখতারকে (Javed Aktar)। বিষয় ছিল ‘হিন্দি সিনেমায় উর্দুর ভূমিকা’। তবে এই আমন্ত্রণ ঘিরেই আপত্তি তোলে জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ (Kolkata Branch) এবং ওয়াহইন ফাউন্ডেশন (Owain Foundation) নামক দুটি ইসলামি সংগঠন। প্রবল চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত শহরে না আসার সিদ্ধান্ত নেন জাভেদ আখতার।
এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই মনে করিয়ে দিচ্ছে তসলিমা নাসরিনকে (Taslima Nasrin) ঘিরে আগের বিতর্ক। তাঁর বই প্রকাশনা বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে জনসমক্ষে উপস্থিতি নিয়ে একাধিকবার আপত্তির জেরে বাংলা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রশ্নই যেন ফের মাথা তুলল জাভেদ আখতার (Javed Aktar) প্রসঙ্গে। নাট্যকার-অভিনেতা ও চিত্রপরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায় (Suman Mukherjee) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এ রকম ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ধর্মীয় মৌলবাদ যে কোনও সমাজের জন্য বিপজ্জনক। ‘ব্যান কালচার’-এর বাড়বাড়ন্তে বোঝা যাচ্ছে অসহিষ্ণুতা কতটা বেড়ে গিয়েছে। এতে গণতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “জাভেদ আখতারের (Javed Aktar) মতো শিল্পীকে কলকাতায় অনুষ্ঠান করতে না দেওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে জিতে গেল সেই সব মৌলবাদী শক্তি, যারা শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিল।”
সুমনের মতে, এক সময় কলকাতার সাংস্কৃতিক চেতনা ও উদারতা ছিল দেশজুড়ে দৃষ্টান্ত। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “আরজি করের (R.G.Kar) ঘটনার প্রতিবাদে যেসব নাটকের দল সরব হয়েছিল, তারা সরকারি হল পাচ্ছে না। সমালোচনা করলেই সরকারি কোপ নেমে আসছে।” তাঁর আক্ষেপ, আজকের দিনে শিল্পীদের একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার জায়গাটাও নেই। রাজনৈতিক মেরুকরণ এতটাই গভীর যে, শিল্পীরাও হয়ে উঠেছেন রাজনৈতিক দলের অংশ। ফলে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার লড়াই দুর্বল হয়ে পড়ছে। জাভেদ আখতার কলকাতায় আসবেন না এই খবর নিঃসন্দেহে হতাশ করেছে শহরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষদের। শুধু একটি আলোচনাসভা বন্ধ হওয়া নয়, এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও উদার সংস্কৃতির প্রতি বড় আঘাতের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকেই। তসলিমার পর এবার জাভেদ আখতার ঘটনাগুলি ক্রমেই ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলার শিল্প-সাংস্কৃতিক পরিসরে সহিষ্ণুতার জায়গা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
