Global Water Crisis : সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে আছে মিষ্টি জলের ভান্ডার!

oftbeat অফবিট

নিউজ পোল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে দিন দিন বেড়ে চলেছে পানীয় জলের সংকট (Drinking Water Crisis)। আফ্রিকা থেকে এশিয়া, এমনকি আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যেও জলাভাব চরমে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে আশার সঞ্চার করেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মহাসাগরের নোনা জলের নীচে লুকিয়ে আছে বিপুল পরিমাণ মিষ্টি জল (Freshwater Under Ocean), যা ভবিষ্যতে মানবসভ্যতার তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম হতে পারে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, আমেরিকার উত্তর-পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরের (Atlantic Ocean) গভীরে এই পানীয় জলের ভান্ডার রয়েছে। এতদিন ধরে বিজ্ঞানীদের মনে সন্দেহ ছিল সমুদ্রতলের নীচে মিষ্টি জলের স্তর থাকতে পারে। অবশেষে খননকার্য ও আধুনিক প্রযুক্তির (Modern Technology in Ocean Exploration) সাহায্যে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। প্রায় ১২টি দেশ একসঙ্গে এই গবেষণায় অংশ নেয়। সমুদ্র উপকূল থেকে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গভীরে গিয়ে খনন চালানো হয়। এতে খরচ হয় প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (25 Million USD), যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২২০ কোটি টাকার সমান। ফলস্বরূপ বিজ্ঞানীরা সমুদ্রতলের নিচে বিশাল মিষ্টি জলের স্তরের সন্ধান পান। অনুমান করা হচ্ছে, নিউ জার্সি (New Jersey) থেকে মাইনে (Maine) পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এই ভূগর্ভস্থ জলাধার।

আরও পড়ুন:Fahad-Swara: স্বরা-ফহাদের জীবনের রঙ বদলেছে একটি বিড়াল

বিশেষজ্ঞদের মতে, জল উত্তোলন সহজ নয়। সমুদ্রের গভীর থেকে এই জল আনার জন্য উন্নত প্রযুক্তি (Advanced Water Extraction Technology) প্রয়োজন হবে। তবে পৃথিবীতে যে হারে পানীয় জলের ঘাটতি (Global Water Scarcity) বাড়ছে, সেই প্রেক্ষাপটে বিকল্প উৎস খোঁজা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations) রিপোর্ট বলছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চাহিদা জোগানের তুলনায় অন্তত ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন (Cape Town Water Crisis) ইতিমধ্যেই ভয়াবহ জটিলতায় ভুগছে এবং তারা সমুদ্রের নীচে জল খোঁজার কাজে হাত লাগিয়েছে।

গবেষণার সূত্রপাত হয় প্রায় ৫০ বছর আগে, যখন আমেরিকার সরকারি জাহাজ খনিজ অনুসন্ধানের সময় সমুদ্রতলে মিষ্টি জলের ইঙ্গিত পায়। ২০১৫ সালে আরও একদল গবেষক গভীর খননের মাধ্যমে স্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করেন। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ব উপকূলে যে জলাধার রয়েছে তা একাই নিউ ইয়র্ক (New York City)-এর মানুষের অন্তত ৮০০ বছরের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করেন, বাস্তবে এর চেয়েও বেশি জল সেখানে লুকিয়ে রয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এই জল পানযোগ্য (Drinkable Water)। এখন বিজ্ঞানীরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন এর উৎস, বয়স এবং ধারাবাহিক জোগানের নিশ্চয়তা। সফল হলে এটি ভবিষ্যতের জলের সংকট কাটাতে বিশ্ববাসীর কাছে পরিত্রাণের পথ হয়ে উঠতে পারে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole