Chief Justice B.R. Gavai:বিচারপতিদের ন্যায়বোধ সর্বাগ্রে,আর্থিক প্রলোভনে পতিত হওয়া চলবে না: প্রধান বিচারপতি গগই!

রাজনীতি রাজ্য

দেশের প্রধান বিচারপতি বি. আর. গগই (Chief Justice B.R. Gavai) শনিবার সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (সিএটি)-এর সম্মেলনে বিচারকদের উদ্দেশ্যে একটি প্রাঞ্জল বার্তা দেন। তিনি বলেন, বিচারকের আসনে বসা প্রত্যেকের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত ন্যায়বিচার এবং স্বাধীনতার প্রতি অবিচল আনুগত্য। টাকার প্রতি আকর্ষণ বা ব্যক্তিগত প্রলোভনে পতিত হলে কেবল বিচারকের ব্যক্তিগত সম্মানই নয়, সমগ্র বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/09/21/all-bengal-table-tennis-championship-2025-mauma-das/

প্রধান বিচারপতির (Chief Justice B.R. Gavai) বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, বিচারকরা যেন ক্ষমতার প্রয়োগে নম্রতা, সতর্কতা এবং দায়িত্বশীলতা বজায় রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিচারকের ক্ষুদ্রতম বিচ্যুতিও সাধারণ মানুষের আদালতের প্রতি আস্থা নষ্ট করতে পারে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের রায়ের উপর অন্য কোনও প্রভাব বা রঙ লাগতে দেওয়া চলবে না। আদালতকে সর্বদা নিশ্চিত করতে হবে যে, ন্যায়বিচারই তার একমাত্র লক্ষ্য।”

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হন এই বিশ্বাসে যে তারা ন্যায়বিচার পাবেন। সেই আস্থা অটুট রাখতে হলে বিচার বিভাগের সততা ও নৈতিকতা প্রশ্নাতীত হতে হবে। মামলাকারী ও আইনজীবী উভয়ের কাছেই আদালতের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

এই মন্তব্য এসেছে এক সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে। সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত বর্মার নাম উঠে আসে বহুল আলোচিত ‘নগদকাণ্ডে’। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না বিচারপতি বর্মার অপসারণের সুপারিশও করেছিলেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম তাঁকে দিল্লি থেকে ইলাহাবাদ হাই কোর্টে বদলির প্রস্তাব দেয়, যা কেন্দ্র অনুমোদন করে। তবে ইলাহাবাদ হাই কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন এর বিরোধিতা করলে স্থির হয়, তদন্ত চলাকালীন তিনি বিচারবিভাগীয় কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের মূল বার্তা স্পষ্ট—বিচারকত্ব একটি নৈতিক দায়িত্ব, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত নিরপেক্ষতা, সততা ও ন্যায়প্রেম। কয়েকজনের অনৈতিক আচরণ গোটা বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তাই সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস বিচার বিভাগের প্রাণশক্তি। নাগরিক আস্থা অটুট রাখতে বিচারকদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সমানভাবে ন্যায়বোধ ও আত্মসংযম বজায় রাখতে হবে।